
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পাশাপাশি ২০৫০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রুফটপ সোলার কার্যক্রম জোরদার, উপকূলীয় ও নিকটবর্তী অঞ্চলে বায়ু বিদ্যুৎ সম্ভাবনা যাচাই, বৃহৎ ইউটিলিটি স্কেল সৌর প্রকল্প বাস্তবায়ন, এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিষয়ে সার্ভে, সমীক্ষা ও পাইলট প্রকল্প চালু করা।
তিনি আরও জানান, জাতীয় এনার্জি স্টোরেজ রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, গ্রিড ফ্লেক্সিবিলিটি উন্নয়ন এবং জ্বালানি-দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে জ্বালানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পূর্ববর্তী সরকারের নীতি নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিনির্ভরতার কারণে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানের কারণে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
বর্তমানে দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট (আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্যসহ) হলেও এখনো নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
সরকার বর্জ্য, বায়ু এবং সমুদ্রস্রোতের মতো বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমও গ্রহণ করবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।