শুক্রবার বিকেলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে এক স্মরণ সভায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে র্যাব বিলুপ্তিসহ ১০টি সুপারিশ করে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। এসব সুপারিশ তুলে ধরেন সংস্থার সিনিয়র রিসার্চার তাকসিম তাহমিনা।
সুপারিশগুলো হলো:
১. সব গুমের ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত; ২. নিখোঁজদের সন্ধানে জাতীয় কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন; ৩. ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার; ৪. Certificate of Absence প্রদান ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ; ৫. সাক্ষী ও ভুক্তভোগী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন; ৬. সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ বাতিল বা সংশোধন; ৭. র্যাব বিলুপ্তি; ৮. গুমের প্রমাণ নষ্টকারীদের বিচারের আওতায় আনা; ৯. দ্রুত ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ; ১০. ICPPED বাস্তবায়ন ও ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
সংস্থাটি দাবি করেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে গুমকে ব্যবহার করেছিল। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সরকারবিরোধীদের গোপনভাবে আটক করে নিপীড়ন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয় সভায়।
অধিকার-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গুম তদন্ত কমিশনে ব্যাপক অভিযোগ দাখিল হয়। কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ‘তিন স্তরের পিরামিড’-এর মাধ্যমে গুম বাস্তবায়ন হতো, যার শীর্ষে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বর্তমানে দেশে নতুন করে গুমের কোনো অভিযোগ না থাকলেও, অধিকার জানিয়েছে-বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হলে ভবিষ্যতে গুমের সংস্কৃতি আবার ফিরে আসতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ নজরুল ইসলাম,
সার্বিক যোগাযোগ: 01867-243396 ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com