ঢাকা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন প্রস্তুতি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নির্বাচন আর মাত্র তিন সপ্তাহ দূরে। এ কারণে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা—উভয় প্রস্তুতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে দেশের সব ৩০০ আসনেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা নিরসন করা হয়েছে।
প্রেস সচিব আরও জানান, আজ প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে এবং মধ্যরাত থেকেই পোস্টাল ব্যালট ছাপার কাজ শুরু হবে, যা আগামীকাল সকাল থেকে পূর্ণমাত্রায় চলবে।
নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় এবার মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকসহ মোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সংখ্যা ৫৯৮ জন।
মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়, মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন ১ হাজার ৮৪২ জন। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। বাতিল মনোনয়নের বিরুদ্ধে করা ৬৪৫টি আপিলের মধ্যে ৪২৫টি মঞ্জুর করা হয়েছে।
নির্বাচনী অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র ও ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯টি ভোটিং বুথে ভোট গ্রহণ হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ ঘিরে আট দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারিক ও ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম ১৫ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে। প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ব্যবহৃত হবে ২৫ হাজার ৫০০টি বডি ক্যামেরা, যার মাধ্যমে লাইভ স্ট্রিমিং ও এসওএস সংকেত পাঠানো যাবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। নির্বাচনে এক লাখের বেশি সেনাসদস্যসহ নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রায় ৫০০ ড্রোন ও ৫০টি ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চালু থাকবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ্লিকেশন’।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন,
“এই নির্বাচন যেন নিখুঁত ও গ্রহণযোগ্য হয়—এটাই সরকারের অঙ্গীকার। দেশ যেন গর্ব করে বলতে পারে, এটি একটি ভালো নির্বাচন ছিল।”
