কুয়াকাটায় হোটেলে আটকে মোটরসাইকেল চালক নির্যাতন: এক মাসেও মামলা নয়, সংকটাপন্ন সাব্বির
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
কুয়াকাটা-এ মোটরসাইকেল চালক সাব্বির হাওলাদারকে আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগের এক মাস পার হলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
নির্যাতনের শিকার সাব্বিরের মা মোসা. পারভীন বেগম জানান, তার ছেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলসহ কুয়াকাটার কুটুমবাড়ি হোটেলে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের দাবি, রাতেই সাব্বির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানায়, তাকে মুক্ত করতে ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে বরিশাল ও পরে ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়া হলেও আর্থিক সংকটে বর্তমানে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
পারভীন বেগম অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তিনি মহিপুর থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। বরং অভিযুক্তরা মামলা না করতে ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. রাসেল হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কুয়াকাটার একটি আড়ত থেকে মাছ সরবরাহের জন্য দাদন নেওয়ার পর সাব্বির মাছ না দেওয়ায় আড়ত সংশ্লিষ্টরা তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনায় তাকে জামিনদার করা হয়েছিল। তবে নির্যাতনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। চিকিৎসার জন্য বরং তিনি স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি শুনেছেন এবং প্রাথমিকভাবে একজন কর্মকর্তাকে খোঁজ নিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে জানতে পারেন, ভুক্তভোগী পক্ষ মামলায় আগ্রহী নয়। তবে এখন বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। লিখিত মামলার অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি।
এদিকে গুরুতর অসুস্থ সাব্বিরের পরিবার দ্রুত মামলা গ্রহণ ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তার সুচিকিৎসার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
