
নিজস্ব প্রতিবেদক
নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলো কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়ে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রমজান উপলক্ষে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে দলটির মহাসচিব ও সংসদীয় দলের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী; পাশাপাশি তিনজন টেকনোক্র্যাটও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রিত্বের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বও নিজের কাছে রেখেছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি ছিল মূলত পরিচিতিমূলক। তবে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলো নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। বেলা ৩টার দিকে বৈঠক শুরু হয়; এর আগে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান সরকারপ্রধান।
বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি জানান, সরকার শিগগিরই ১৮০ দিনের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করবে। তিনি বলেন, “এই সময়ের মধ্যে গৃহীত কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। রমজানে যেন স্বস্তিদায়ক পরিবেশ থাকে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”
সাকি আরও জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণ না করে মূল কাজে মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে। “অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা কমিয়ে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নে এগোতে হবে,” বলেন তিনি। দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন গভর্নমেন্ট’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, রমজানকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও দ্রুত অগ্রগতি চান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রাথমিক অগ্রাধিকারে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ চেইন মনিটরিং এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান জানান, রোজায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঈদে নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছেন সরকারপ্রধান। গণমাধ্যম কমিশন গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়েও অগ্রগতি হবে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়।
নতুন সরকারের প্রথম বৈঠকেই রমজানকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের বার্তা স্পষ্ট হলো। এখন নজর বাস্তবায়নের দিকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com