আইএমএফের শর্তে ‘অন্ধ সম্মতি নয়’: নিজস্ব সিদ্ধান্তে এগোবে সরকার—অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে চলমান আলোচনায় আগের সরকারের করা সব শর্ত বর্তমান সরকার মেনে নাও নিতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিজস্ব সিদ্ধান্তেই এগোবে সরকার।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং আগের চুক্তির সব সিদ্ধান্ত মানার বাধ্যবাধকতা নেই। “আমরা একটি নির্বাচিত সরকার। শুধু তাদের শর্তে সবকিছু হবে না, আমাদেরও নিজস্ব অবস্থান রয়েছে,”—যোগ করেন তিনি। তিনি জানান, এই আলোচনা আরও ১৫ থেকে ২০ দিন, এমনকি এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সঙ্গে আলোচনায় ইতোমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই আইএমএফের চাপে হয়নি। “বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দাম এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুদ্ধের প্রভাবের কারণে সরকারকে তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। “বিশ্বের বিভিন্ন দেশই জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। আমরাও বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি,”—বলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, দাম বাড়লেও এখনো সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে।
সরকারি ঘোষণায় রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি ওঠানামা করতে পারে, তবে সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী এবং শিগগিরই বিশ্বব্যাংক ও এডিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com