জ্বালানির দামে চাপ: নিত্যপণ্যে অস্থিরতা, সবজি- মাছের দাম বাড়লেও কমেছে মুরগি
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। পাইকারি পর্যায়ে শশা, টমেটো, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা খুচরা বাজারে গিয়ে আরও বেশি হয়ে দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার ট্রাক ভাড়াও বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ট্রিপ সংকট তৈরি হয়েছে।
একজন সবজি ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে চাষিদের কাছে পর্যাপ্ত সবজি থাকায় সরবরাহ বেশি, ফলে দাম স্বাভাবিকভাবে আরও কম থাকার কথা ছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই সুবিধা ভোক্তারা পাচ্ছেন না। তার মতে, তেলের দাম না বাড়লে সবজির দাম আরও ৫ থেকে ১০ টাকা কম হতে পারত।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর পোল্ট্রি, সোনালি ও দেশি মুরগির দামে স্বস্তি ফিরেছে। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কমে বর্তমানে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোল্ট্রি মুরগিও ১০ থেকে ২০ টাকা কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে। দেশি মুরগির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭০ টাকায়।
গরু ও খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস কেজিতে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। প্রকারভেদে মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ মাছ ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০ টাকা বেশি। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ছিল প্রায় ৩০০ টাকা। বড় আকারের রুই মাছ ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল, টেংরাসহ অন্যান্য মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিছু পণ্যে দাম কমলেও সার্বিকভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com