
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত আর্থিক খাতের বার্তা, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪২৫ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড
বিনিয়োগ ও ঋণ ব্যবস্থায় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর; জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর কোড
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের আর্থিক খাত, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও ঋণ বরাদ্দে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৪২৫ কোটি টাকার নতুন স্টার্টআপ বিনিয়োগ তহবিল চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি আয়োজিত ‘অঙ্কুর বাংলাদেশ ফান্ড-১’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আর্থিক খাত স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। বিনিয়োগ ও ঋণ বরাদ্দে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা হবে না। এটি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত।”
তিনি জানান, পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ বাজার এবং সামগ্রিক আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের বাজারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশগ্রহণে ৪২৫ কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি। ব্যাংকগুলো তাদের মুনাফার এক শতাংশ এই তহবিলে বিনিয়োগ করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এই তহবিল থেকে শুধু প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগ নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন। সিড, লেট সিড ও সিরিজ-এ পর্যায়ে ধাপে ধাপে অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “তরুণ উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল তহবিলের অভাব ও জামানত জটিলতা। নতুন এই ফান্ড শুধু একটি প্রকল্প নয়, দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বড় উদ্যোগ।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি জানান, আগামী জুলাই থেকে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। তার ভাষায়, “ক্যাশ লেনদেন কমিয়ে ক্যাশলেস সমাজ গড়তে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
গভর্নর আরও জানান, ব্যাংকগুলোর ৪২৫ কোটি টাকার মূলধনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতে আরও ৫০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করবে।
এ সময় সিটি ব্যাংক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, “শুধু প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও এই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সুবিধা পাবেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আর্থিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ খাতে নতুন অর্থায়ন দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com