
অবৈধ পার্কিং ও বাস কাউন্টারে নাকাল ঢাকা, বাড়ছেই যানজটের ভোগান্তি
টার্মিনালের বাইরে বাস দাঁড় করানো, ফুটপাত দখল আর অনিয়ন্ত্রিত কাউন্টারে অচল রাজধানীর সড়ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার পেছনে অবৈধ পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত বাস কাউন্টার বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। যানজট নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নানা উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে নগরবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং, সড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা এবং অবৈধ বাস কাউারের কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফুটপাত, গলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক—সব জায়গাই এখন অনেকটা অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের দখলে।
বিশেষ করে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকাকে এই বিশৃঙ্খলার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করছেন নগরবাসী। টার্মিনালের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৫০টি বাস হলেও বিভিন্ন রুটে হাজারের বেশি বাস চলাচলের অনুমতি থাকায় প্রতিদিন শত শত বাস সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে মহাখালী থেকে বনানী পর্যন্ত প্রধান সড়কে সারাদিনই তীব্র যানজট লেগে থাকে।
বাসচালকদের দাবি, টার্মিনালের ভেতরে জায়গা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই রাস্তায় বাস দাঁড় করাতে হচ্ছে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এটি শুধু অবকাঠামোগত সংকট নয়, বরং ব্যবস্থাপনারও বড় ব্যর্থতা।
রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও মতিঝিল এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের একাংশজুড়ে সারি সারি প্রাইভেটকার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এতে পথচারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পুরো একটি লেন পার্কিংয়ের কারণে বন্ধ হয়ে থাকে। ফলে বাকি লেনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়ে যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।
পার্কিং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নানা পরিকল্পনার কথা বললেও বাস্তবায়নের ঘাটতি স্পষ্ট। ডিএসসিসি জানিয়েছে, নগরে প্রায় ৩০টি নির্ধারিত পার্কিং জোন রয়েছে এবং আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। তবে জমির সংকট ও বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে তা বাস্তবায়ন ধীরগতির।
ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় পার্কিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং কমানো যায়।
অন্যদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ দূরপাল্লার বাস কাউন্টার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রগতি সরণি, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, শ্যামলী, গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ধারে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। এতে সড়কের একাংশ কার্যত দখল হয়ে যাচ্ছে এবং যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও পরিবহন মালিকরা যাত্রী সংগ্রহের সুবিধায় শহরের ভেতরে কাউন্টার পরিচালনা করছেন। এতে ব্যবসায়িক সুবিধা বাড়লেও নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
যদিও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সায়েদাবাদ এলাকায় অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে অভিযান চালাচ্ছে, তবে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় এখনো তেমন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যানজট নিরসনে দ্রুত পার্কিং জোন সম্প্রসারণ, ভবন নির্মাণে কঠোর পার্কিং নীতিমালা বাস্তবায়ন, অবৈধ বাস কাউন্টার উচ্ছেদ এবং ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সমন্বিত অভিযান জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি টার্মিনালের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় রেখে রুট পারমিট অনুমোদনের ক্ষেত্রেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com