
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, “মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে সময়ে সময়েই এটিকে আরও জোরদার করতে হয়। জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদের সবার।”
তিনি বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতার মতো অপরাধের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি আলোচিত ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. জাহিদ জানান, আসন্ন কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে সচেতনতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও থাকা এই মন্ত্রী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
তিনি বলেন, “মানুষকে আইন সম্পর্কে জানতে হবে, নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে ভালো ও মন্দের পার্থক্য বোঝানোর জন্য নৈতিক শিক্ষার প্রসার প্রয়োজন।”
নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আইনি কাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনগুলো মোটামুটি যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ই বর্তমানে বড় উদ্বেগের কারণ।
তিনি বলেন, “আইনের বড় কোনো ঘাটতি নেই। মূল সমস্যা হলো আইন প্রয়োগ, মানুষের মানসিকতা এবং সামাজিক অবক্ষয়।”
অধ্যাপক ডা. জাহিদ মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তার ভাষায়, “একমাত্র ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলন ও সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।”
এদিকে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনোভাবেই শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন কিংবা নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা সহ্য করবে না। একই সঙ্গে তিনি দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এই উদ্যোগ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com