
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা তৈরিতে চলচ্চিত্রের মতো শক্তিশালী মাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজ পরিবর্তনের বার্তাবাহী ও পরিবেশবান্ধব চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ট্রেন্ড অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (জিটিসিএফ) ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সমাজ পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী বার্তা বহন করে এমন চলচ্চিত্রকে সরকারি অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একইভাবে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক যেকোনো চলচ্চিত্রের প্রস্তাব তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
জিটিডি মিডিয়া প্রোডাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সময়োপযোগী এবং স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। চলচ্চিত্রকে সচেতনতা সৃষ্টির কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ দিবসের এই আয়োজনকে শুধু একবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতি বছর আরও বৃহৎ পরিসরে ও পরিকল্পিতভাবে আয়োজন করা উচিত। পাশাপাশি পরিবেশবিষয়ক চলচ্চিত্র ও কনটেন্টকে শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ না রেখে সর্বোচ্চ প্রচারের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে যারা এখনো সচেতন নন, তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নতুন ভাবনার খোরাক জোগাতে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি চলচ্চিত্র অনুদান নীতিমালার আওতায় পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক বার্তাসমৃদ্ধ চলচ্চিত্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উৎসবের উদ্যোক্তা ও তরুণ নির্মাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের উদ্যোগ হয়তো এখন সীমিত পরিসরে, কিন্তু এর প্রভাব বৈশ্বিক। তাই দৃঢ় মনোবল ও সৃজনশীলতা নিয়ে এই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচক ও বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে চলচ্চিত্র, গল্প ও সৃজনশীল সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এসডো ও বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের সহযোগিতায় এবং নেক্সাস টেলিভিশনের মিডিয়া পার্টনারশিপে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক উৎসব সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবে দেশ-বিদেশের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন দেশের জলবায়ু সংকট, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com