‘সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয়, আমরা গড়তে চাই আরও ভালো বাংলাদেশ’—কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কক্সবাজার, ১৪ জুন : প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের আদলে গড়ে তোলার চিন্তা নয়, বরং দেশের নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
শনিবার (১৪ জুন) রাতে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই শুনতাম—বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলবো, কানাডা বানিয়ে ফেলবো। আমি বাংলাদেশকে অন্য কিছু বানাতে চাই না। আমি বাংলাদেশকে একটু বেটার বানাতে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান পরিবর্তনের কাজ শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশকে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে হলে, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরে প্রবেশের সময় তিনি ‘বিশ্বের দীর্ঘতম স্যান্ডি সি-বিচ’ লেখা একটি সাইনবোর্ড দেখেছেন। বিশ্বের কাছে কক্সবাজারকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আপনারা চাইলে কক্সবাজারকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করতে পারেন। এমন একটি শহর গড়ে তুলতে পারেন, যেখানে যানবাহন নিয়ম মেনে চলবে, সঠিকভাবে পার্কিং করবে এবং মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।”
বিগত ১৭ বছরে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গত সাড়ে চার মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আমার মনে হয়েছে, অনেক কাজ আছে যা গত ১৭ বছরেই সম্পন্ন হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হয়নি। ফলে আমাদের এখন অনেক কাজ জমে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা এবং পর্যটন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ সময় তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা এবং কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী হাসিনা আহমদও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তিনি বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com