‘নিত্যপণ্যের কর প্রত্যাহার করে জনবান্ধব বাজেট দিয়েছি, মানুষের ভাগ্য বদলাতে চাই’—চকরিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কক্সবাজার, ১৪ জুন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি জনবান্ধব বাজেট, যার মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
শনিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চাল, ডাল, তেল, চিনি, নুন, লবণ ও মসলাসহ সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর যে কর ছিল, তা আমরা প্রত্যাহার করেছি, যাতে জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে এবং জনগণ স্বস্তিতে থাকতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ওষুধ ও সরঞ্জাম, হৃদরোগের চিকিৎসা উপকরণ এবং চোখের ছানি অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত লেন্সের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের ফলে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। “আগে যেখানে জনগণের এক লাখ টাকা খরচ হতো, এখন যদি অর্ধেক খরচ হয়, তাহলে লাভটা অবশ্যই জনগণের,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা মদের ওপর কর বৃদ্ধি বা সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদ করে, তারা জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করে না। তারা দেশের মানুষের কল্যাণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।”
বিরোধীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে নানা প্রতিশ্রুতির টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এখন তারা আর সেসব কথা বলে না, কারণ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা তাদের ছিল না। তারা শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল।”
কক্সবাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কটি আগামীতে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, “২৫ বছর আগে যেমন দেখেছি, আজও রাস্তাটি প্রায় একই রকম রয়েছে। অথচ এই সড়ক এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “কক্সবাজারের গুরুত্ব এখন অনেক বেড়েছে। খুব শিগগিরই মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হবে। পাশাপাশি আনোয়ারা-পটিয়া-বাঁশখালী সড়কও সম্প্রসারণ করা হবে।”
কক্সবাজারের লবণচাষীদের দুরবস্থার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে লবণচাষীরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না—এমন সংবাদ পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শিগগিরই লবণের একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে, যাতে চাষিরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রাম, উপজেলা ও পৌর এলাকার মানুষ যাতে চিকিৎসার জন্য দূরে চট্টগ্রাম বা ঢাকায় যেতে বাধ্য না হন, সেজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “যখনই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, কক্সবাজারের মানুষ ধানের শীষের পক্ষে রায় দিয়েছে। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। হাজার হাজার নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com