রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা
ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যমে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, গুরুতর অসুস্থতা এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা অনুভব করায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে সংবিধান অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একজন প্রভাবশালী মন্ত্রিপরিষদ সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, "একটি নামই আছে। আপাতত বিকল্প ভাবা হচ্ছে না।" তবে এ বক্তব্যের বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি অরাজনৈতিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নাম নিয়েও আলোচনা চলছে বলে একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় বিভিন্ন নাম থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ-পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পদত্যাগ না করলে তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com