
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল (ওএলসি) গত ১ সেপ্টেম্বর একটি নতুন আইনি মতামত প্রকাশ করেছে, যা দেশটির রাজ্যগুলোর জন্য ফেডারেল অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত ও ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। এই আইনি ব্যাখ্যাটি ১৯৯৬ সালে প্রণীত 'পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট'-এর একটি নির্দিষ্ট ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই নতুন ব্যাখ্যার মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে ওএলসির দেওয়া একটি পূর্ববর্তী আইনি ব্যাখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিওজে জানিয়েছে, এই নতুন ব্যাখ্যাটি কেবল ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে এবং ১৯৯৮ সালের ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে অতীতে নেওয়া কোনো পদক্ষেপের জন্য রাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের রেট্রোঅ্যাকটিভ বা অতীত-প্রযোজ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং বেশ কয়েকটি মার্কিন টেরিটরি টিএএনএফ (TANF) ও এসএসআই (SSI) কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। নতুন এই আইনি ব্যাখ্যার ফলে রাজ্যগুলোর সরকারি সংস্থাগুলোকে এখন অনথিভুক্ত বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করার ক্ষেত্রে আরও কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। এই পরিবর্তনটি অভিবাসন নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলোকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন (এনওয়াইআইসি)। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আওয়াদেহ ৪ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বলেন, এই সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে এবং এটি রাজ্য সরকারগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের কাজে সরাসরি জড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। বিশেষ করে, ফেডারেল অর্থায়নের শর্ত হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকে অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া কতটা আইনসম্মত এবং তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্কের ২০০টিরও বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী অধিকার সংগঠনের জোট হিসেবে পরিচিত এনওয়াইআইসি জানিয়েছে, তারা অভিবাসী ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় তাদের নীতিগত ও আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবে। ডিওজের এই নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে দেশজুড়ে এখন ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন এই আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে নিউইয়র্কে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এর ফলে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সেবা গ্রহণ নিয়ে ভীতি ও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে বলা হয়েছে, টেম্পোরারি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর নিডি ফ্যামিলিজ (টিএএনএফ) ও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই)-এর মতো ফেডারেল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি পরিচালনাকারী সংস্থা নয়, রাজ্যের অন্যান্য সরকারি সংস্থার ওপরও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওএলসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইনে ব্যবহৃত ‘স্টেট’ শব্দের আওতায় রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই ব্যাখ্যায় তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব মূলত টিএএনএফ ও এসএসআই পরিচালনাকারী নির্দিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com