
জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে অর্থ ও বাণিজ্য সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিশেষ কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিন বা ছয় মাস পর্যন্ত আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের ওপর ১ শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূসক, আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এই পদক্ষেপের ফলে দ্রুত সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা শিল্প উৎপাদন বজায় রাখতে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বৈঠকে রাজস্ব ঘাটতি রোধ ও অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর আওতায় নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকার পরিবর্তে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ড রোল ব্যবহার বিধিমালা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সংশোধনের বিষয়টিও অনুমোদন পেয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। ১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা। চুক্তি স্বাক্ষরের তিন বছর পর উভয় পক্ষ তা পর্যালোচনার বা সংশোধনের সুযোগ পাবে। হংকং বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগের ষষ্ঠ বৃহত্তম উৎস হিসেবে বিবেচিত। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির ফলে পোশাক ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দেশের সামগ্রিক শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সৌর বিদ্যুৎ যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৬ মাসের কর ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: এর ফলে দ্রুততম সময়ে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, বিদ্যুৎ ঘাটতি কমে শিল্প উৎপাদন বজায় থাকবে এবং উৎপাদন ব্যয় ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি হ্রাস পেয়ে বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তি স্বাক্ষরের ৩ বছর পর উভয়পক্ষ তা সংশোধনের সুযোগ পাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com