
দুই যুগ আগে কিশোরগঞ্জে সংঘটিত একটি ডাকাতি ও জোড়া খুনের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সি নুর মোহাম্মদ শেষ পর্যন্ত কারাগারে গেলেন। মঙ্গলবার ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে শুনানিকালে নুর মোহাম্মদ নিজেকে জটিল রোগে আক্রান্ত দাবি করে জামিন প্রার্থনা করেছিলেন। এছাড়া অসুস্থতার কথা বিবেচনায় নিয়ে নিজ খরচে পরিবহনে করে কারাগারে যাওয়ার আবেদনও করেছিলেন তিনি, কিন্তু আদালত সেই আবেদনও মঞ্জুর করেননি। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক ভেঙে সাড়ে ১২ লাখ টাকা এবং ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মোশাররফ হোসেন ও আ. নামের দুই ব্যক্তি নিহত হন।
ঘটনার পর দোকানের মালিক ফেরদৌস বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে নুর মোহাম্মদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালে মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল। নুর মোহাম্মদ এই মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ দুই যুগ পর মঙ্গলবার তিনি বিচারিক আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন চাইলে আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ অগাস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com