
মাত্র ২২ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন মিস অস্ট্রিয়া ২০২৪ বিজয়ী লুসিয়া সিসিচ। ভিয়েনার এই তরুণীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান 'মিশন অস্ট্রিয়া'। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে গভীর শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে তারা লুসিয়াকে একজন অসাধারণ তরুণী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার মুকুট জয়ের পাশাপাশি তিনি মিস ভিয়েনা হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভিয়েনা ফ্যাশন উইকের অংশ হিসেবে আয়োজিত সেই প্রতিযোগিতায় তিনি শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। তবে ২০২৪ সালের পর অস্ট্রিয়ায় জাতীয় পর্যায়ের এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা আর অনুষ্ঠিত হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে লুসিয়াই ছিলেন এই প্রতিযোগিতার সর্বশেষ বিজয়ী।
লুসিয়ার ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জে পূর্ণ। জন্মের সময় থেকেই তাঁর হৃদ্যন্ত্রের ভালভে ত্রুটি ছিল, যার কারণে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁকে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শীতকালে তিনি একটি অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি নিজের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
লুসিয়ার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সূত্র বা আয়োজক প্রতিষ্ঠান থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তাঁর দীর্ঘদিনের হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
লুসিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ২০২৪ সালের মিস্টার অস্ট্রিয়া ক্রিস্টোফার ডেং। অস্ট্রিয়ার সংবাদমাধ্যম ও২৪-কে তিনি বলেন, এই খবর তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। শিরোপা জয়ের পর থেকে লুসিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং তিনি তাঁকে নিজের বোনের মতো মনে করতেন।
মিশন অস্ট্রিয়া জানিয়েছে, লুসিয়া কেবল একজন শিরোপাধারী ছিলেন না, বরং তিনি তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। মাত্র ২২ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে তিনি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিখরে পৌঁছানোর পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়ে গেছেন। তাঁর এই অকাল বিদায় অস্ট্রিয়ার বিনোদন ও ফ্যাশন অঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাঁর চলে যাওয়ার খবর অত্যন্ত দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পেরেছে তারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের চিকিৎসার কারণে কঠিন সময়গুলো পেরিয়ে পরিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই হৃদ্রোগের পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কারণের সম্পর্ক স্থাপন করা এখনই সমীচীন নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি তাঁদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন এবং তাঁর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে সবার মধ্যে বেঁচে থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com