
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও মুনাফার হিসাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে সংস্থাটি ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা আয় এবং ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা নিট মুনাফা দেখিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ২৮২ কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে বিমানের বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৪ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জের মূল পাওনা এবং বিপুল পরিমাণ সারচার্জ মিলিয়ে এই বিশাল অংকের দায় তৈরি হয়েছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় অংকের বকেয়া রয়েছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যার পরিমাণ ৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে ১ হাজার ৭৮১ কোটি এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬০৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। তালিকার বাকি বকেয়া যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, কক্সবাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরের। এই মোট বকেয়ার মধ্যে ৫১২ কোটি টাকা ভ্যাট এবং ৫৩ লাখ টাকা আয়কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ল্যান্ডিং, রুট নেভিগেশন, বোর্ডিং ব্রিজ, এমবারকেশন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও চেক-ইন কাউন্টারসহ বিভিন্ন সেবার বিপরীতে বেবিচক এসব চার্জ আদায় করে থাকে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম মনে করেন, বকেয়া আদায়ের ক্ষেত্রে বেবিচকের দ্বিমুখী নীতি পরিহার করা জরুরি। তার মতে, বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতি শিথিলতা কাম্য নয়। তিনি বেবিচক ও বিমানকে আলোচনার মাধ্যমে পাওনা ও সারচার্জ সমন্বয়ের বাস্তবসম্মত পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
শুধু বেবিচক নয়, জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েলের কাছেও বিমানের বড় অঙ্কের বকেয়া রয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত সেখানে বকেয়ার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগে বিভিন্ন সময় বকেয়া ও সারচার্জ মওকুফের সুযোগ থাকলেও এবার তা সম্ভব নয়। বর্তমানে বিমান কিস্তিতে পরিশোধের চেষ্টা করলেও, বর্তমান গতিতে চললে পদ্মা অয়েলের পুরোনো বকেয়া পরিশোধ করতে ১৫ থেকে ১৬ বছর সময় লেগে যেতে পারে। একদিকে বড় অঙ্কের মুনাফা প্রদর্শন, অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার বকেয়া—এই বৈপরীত্যই এখন সংস্থাটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com