
ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের মেনু নিয়ে ভারতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। গত শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই জমকালো নৈশভোজে মাছ বা মাংসের কোনো পদ না রেখে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মেনুতে ১০টিরও বেশি পদ থাকলেও আমিষের অনুপস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের নেতারা।
এই ঘটনাকে ঘিরে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বিজেপি সরকার বিশ্বমঞ্চেও নিরামিষভোজী খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কটাক্ষ করে বলেন, রেকর্ডের খাতিরে বলতে চাই, ভারতের অন্তত ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। এ বিষয়টি তুলে ধরে তিনি অনেকটা খোঁচা দেওয়ার সুরেই মন্তব্য করেন, ‘এ কারণেই আমি বলেছিলাম— মাটন-চিকেন নেই...।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির করা ‘নারাজ ফুফা’ নামক সেই বিতর্কিত কটাক্ষের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন।
একইভাবে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নেতা ওয়ারিস পাঠানও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা ভারতের বৈচিত্র্য নিয়ে অনেক কথা বলে থাকি। তিনি আরও যোগ করেন, আপনি যদি নিরামিষভোজ প্রচার করতে চান, তবে অবশ্যই করতে পারেন, তাতে কোনো আপত্তি নেই। তবে এভাবে মেনু ঠিক করার বিষয়টি নিয়ে তার ভিন্নমত রয়েছে।
এদিকে কংগ্রেসের এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নীতিগত কোনো ইস্যু বা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ফলাফল নিয়ে আলোচনা না করে কংগ্রেস স্রেফ খাবারের মেনু নিয়ে কথা বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনাকে তুচ্ছ করে দেখছে। বিজেপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, বৈশ্বিক বিষয়ে ভারতের প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে আসায় কংগ্রেস আসলে অসন্তুষ্ট। সমালোচনা করার মতো কোনো বাস্তব বিষয় না খুঁজে পাওয়ায় তারা নৈশভোজের এই মেনু নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তুহিন সিনহা এ প্রসঙ্গে বলেন, গান্ধীর এহেন মন্তব্য শুধু তুচ্ছ ও হাস্যকরই নয়, বরং এটি তার এবং সামগ্রিকভাবে কংগ্রেস দলের সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও বলেন, দেশে যদি সত্যিকারের কোনো দায়িত্বশীল বা বিচক্ষণ বিরোধীদলীয় নেতা থাকতেন, তবে তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতকে তাদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানাতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতকালের আয়োজনে সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের জন্য পুরোপুরি নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুরুতে ছিল খুম্ব গালাউটি, আর মিষ্টির তালিকায় ছিল শাহদূত ফিরনি ও জিলাপির সঙ্গে ফ্রুট ক্রিম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে মূল খাবারের সব পদই ছিল নিরামিষ—পনির, মাশরুম, মিলেট পোলাও ও বিটরুট রায়তা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব খাবারে নতুন ও বৈচিত্র্যময় উপকরণও ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এক্সে লিখেছেন, ‘সহদেশীয়দের ওপর নিজেদের পছন্দের খাবার চাপিয়ে দেয়ার বিজেপির অভ্যাস এমনিতেই গভীরভাবে সমস্যাজনক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিথিদের ওপরও নিজেদের পছন্দ চাপিয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এই মেনু সেই বৈচিত্র্যকেই যেন মুছে দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com