
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম এবং আকস্মিক মিছিল ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে বেশ কিছু এলাকায় নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনা পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
গত রবিবার পুলিশ সদর দপ্তর এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে ইউনিটের প্রধানদের কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কোনো এলাকায় যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল হয়, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এর দায় নিতে হবে। যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বদলির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার পরপরই গুলশানে আয়োজিত মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া একই কারণে গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার গুলশানে গত শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে একটি মিছিলের সময় পুলিশি দুর্বলতা ও আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি ছিল। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশ হাতেনাতে দুজনকে গ্রেপ্তার ও পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঙ্গলবার সচিবালয়ে জানান, মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও পুলিশ হয়তো তখন জুমার নামাজের অজুহাতে সমবেত হওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য ঠিকমতো বুঝতে পারেনি।
শুধু গুলশান নয়, গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন টেকপাড়া, সোবানী রিসোর্টের পেছনে এবং চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকায় সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে পৃথক মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা মোকাবিলায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার সনাতন ধারা বদলে 'প্রিভেন্টিভ মেজার' বা আগাম প্রতিরোধমূলক কৌশলে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিএমপি কমিশনারের নতুন এই কৌশলের আওতায় রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে কঠোর ব্লক চেক, স্পটভিত্তিক জিরো-গ্যাপ সিকিউরিটি ব্যবস্থা এবং আবাসিক হোটেলের অতিথি তালিকা সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের মুভমেন্ট ও সম্ভাব্য অপতৎপরতা রুখতে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপরাধীরা যাতে ঢাকায় এসে নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের (আইএডি) মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে মিছিলের নেতৃত্বদানকারীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়াসহ রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত বৈঠকের মাধ্যমে নাশকতা রুখতে রাতভর আবাসিক মেস, হোস্টেল ও হোটেলে অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই ভোগান্তির শিকার না হয়, সে বিষয়ে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মূলত দলটির অপতৎপরতা ও ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতেই পুলিশ এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরাসরি ও অনলাইনে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে ঢাকার মতো জায়গায় একাধিক খণ্ড খণ্ড মিছিল তারা ইতিমধ্যে করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে গুলশানের বড় মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো চাপে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই বৈঠক থেকে পুলিশের সবক’টি ইউনিট প্রধানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের কোনো মিছিল ঠেকাতে না পারলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিসহ তার ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নেয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই প্রতিটি থানায় রাত এবং দিনে টহল বাড়াতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিরা সমন্বয় করে বৈঠক করে অপরাধীদের ধরার পাশাপাশি সার্বিক বিষয়ে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিক অন্যত্র বদলিরও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরই অংশ হিসেবে গুলশানের মিছিলের জেরে ৫ দিন পর গুলশান থানার ওসি ও গুলশান জোনের ডিসিকে ক্লোজ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com