
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক সফরসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে না থাকার নীতি বিবেচনায় নিয়ে তার এই সফরের পরিধি সংক্ষেপ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নির্ধারিত সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশ সফরে বের হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তার এবারের সফর সূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। সফরের সঙ্গী হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমান। এর আগে সানফ্রান্সিসকো গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সাথে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও সফর সংক্ষিপ্ত হওয়ায় সেসব কর্মসূচি এখন বাদ পড়েছে। মূলত এবারের সফরটি নিউইয়র্ক কেন্দ্রিক হচ্ছে।
শুধু কর্মসূচিতেই নয়, সফরসঙ্গীর বহরও কমিয়ে আনা হচ্ছে। এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের কম রাখার বিষয়ে তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিগত সরকারগুলোর তুলনায় এটি অনেক সীমিত। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১৮০ জন এবং ২০১৯ সালে ২৯২ জনের বড় বহর বিদেশে গিয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালে ৭৯তম জাতিসংঘ অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গী ছিলেন ৫৭ জন। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সাশ্রয় এবং কেবল প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতির লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তার সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে উঠে আসবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বিশ্বনেতাদের সামনে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাতের টেকসই সমাধান এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অবস্থান ব্যক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের ভূমিকার ওপর জোর দেয়া হবে।
এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকট থাকবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থন ও কার্যকর সহযোগিতা আহ্বান করবেন তিনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের সাইডলাইনে এই মানবিক সংকট নিয়ে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এছাড়া ২৩ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নেয়া সরকার প্রধানদের সাথে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্ব পাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির আসনে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে বৈশ্বিক মঞ্চে একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির উপস্থিতি তৈরি করছে ব্যতিক্রমী এক কূটনৈতিক মুহূর্ত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘের অধিবেশন শেষে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা ছিল তার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এতে আয়োজক হিসেবে থাকবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com