
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে বর্তমান প্রশাসন। নতুন এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এইচ-১বিসহ বেশ কিছু ওয়ার্ক ভিসার অধীনে থাকা ব্যক্তিরা যদি চাকরি হারান বা চাকরি ছেড়ে দেন, তবে বর্তমানে প্রচলিত ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা বাড়তি সময় আর পাবেন না। গত ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ফেডারেল রেজিস্টারে ‘এলিমিনেটিং দ্য ডিসক্রিশনারি সিক্সটি-ডে গ্রেস প্রিয়ড’ শিরোনামে এই নতুন প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। এই পরিবর্তনের ওপর জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী ১০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান নিয়মে নির্দিষ্ট কর্মভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীরা যদি নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মসংস্থান হারান, তবে তাদের নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করা বা প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত নতুন নিয়মটি কার্যকর হলে এই সুরক্ষা ব্যবস্থাটি আর থাকবে না। ডিএইচএস দাবি করেছে যে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনিক কাজের চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।
এই নতুন প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিসা ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এইচ-১বি, এইচ-১বি১, ই-১, ই-২, ই-৩, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসা। এইচ-১বি ভিসাটি মূলত প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশাজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া এল-১ ভিসা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশেষ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। আবার ও-১ ভিসাটি বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, ক্রীড়া ও শিল্পকলার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ। অন্যদিকে, টিএন ভিসাটি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত।
বর্তমানে হঠাৎ চাকরি হারালেও বিদেশি কর্মীরা ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নেওয়া বা ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়ে থাকেন। তবে নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এখনকার ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের নিয়মটিই বহাল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই পরিবর্তনের যৌক্তিকতা এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিবেচনা করেই এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যা বিদেশি পেশাজীবীদের ক্যারিয়ার এবং বসবাসের পরিকল্পনায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৭ সাল থেকে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস না থাকলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ ভিত্তিও হারাতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত বিধি জারি হলে পরিবর্তনটি কার্যকর হতে পারে। চাকরির আরও তথ্য: এ সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে, অন্য বৈধ স্ট্যাটাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে অথবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর প্রভাব শুধু মূল ভিসাধারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com