তানভিরুল ইসলামের নেতৃত্বে আখাউড়া-লাকসাম প্রকল্পে ১,৫১৮ কোটি টাকা সাশ্রয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্প অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় ১ হাজার ৫১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা কম ব্যয়ে বাস্তবায়ন হয়েছে। ৬ হাজার ৫০৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিপরীতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৯৮৬ কোটি ৪ লাখ টাকা।
প্রকল্পটির ৯ম ও শেষ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন মোঃ তানভিরুল ইসলাম। তাঁর দায়িত্বকালেই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরামর্শকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত কাজ শেষ করার পাশাপাশি বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা এবং সদর রসুলপুর-রাজাপুর সেকশনের ব্ল্যাক কটন জোনে মাটির ভারবহন ক্ষমতা কম থাকাসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
সব বাধা পেরিয়ে প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সফলভাবে শেষ হয়। এর আগেই ২০২৩ সালের ২০ জুলাই আখাউড়া-লাকসাম সেকশনের আপ ও ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে আখাউড়া-লাকসাম সেকশনে ট্রেন পরিচালনার অপারেশনাল সক্ষমতা ২৩ জোড়া থেকে বেড়ে ৭২ জোড়ায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেনের রানিং টাইম প্রায় ৩০ মিনিট কমেছে। নতুন ডাবল লাইন চালুর ফলে এ সেকশনে রেল যোগাযোগের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যমুনা রেল সেতু নির্মাণেও দায়িত্ব পালন
মোঃ তানভিরুল ইসলামের কর্মজীবনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব ছিল জাইকার অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্প। তিনি ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত প্রকল্পটিতে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে যমুনা রেল সেতু প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ সেতুটির ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনবিশিষ্ট ডেডিকেটেড রেল সেতু হিসেবে যমুনা রেল সেতু দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজের সমন্বয়ে মোঃ তানভিরুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এখন দায়িত্ব পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে
আখাউড়া-লাকসাম প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর মোঃ তানভিরুল ইসলামকে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব), চট্টগ্রাম পদে পদায়ন করা হয়। তিনি ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রেলপথের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও রেলপথের নিরাপত্তা বাড়াতে একাধিক সেকশনে উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জবাজার, জামালপুর-ইব্রাহিমাবাদ, ময়মনসিংহ-গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ, শ্যামগঞ্জ-জারিয়া ঝাঞ্জাইল, গৌরীপুর-ভৈরববাজার, আখাউড়া-সিলেট, লাকসাম-নোয়াখালী, ষোলশহর-নাজিরহাট এবং ফতেয়াবাদ-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেকশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব কাজের অধিকাংশ প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হলে রেলপথের মান ও নিরাপত্তা আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্টদের মতে, আখাউড়া-লাকসাম প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয়, যমুনা রেল সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পে দায়িত্ব পালন এবং বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের রেলপথের মেরামত ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে মোঃ তানভিরুল ইসলামের কর্মজীবনে রেল অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com