ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালুর প্রায় ১০ মাসের মাথায় নিজেদের প্রথম এয়ারবাস এ৩৩০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করেছে ভিয়েতনামের সান ফু কুওক এয়ারওয়েজ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ফু কুওক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন এই উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। ভিএন-এ৯৬৯ নিবন্ধন নম্বরের এই বিমানটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মূলত স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ফ্লাইট পরিচালনার গণ্ডি পেরিয়ে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে পা রাখছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে মোট আটটি এ৩৩০ বিমান যুক্ত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, এটি তারই প্রথম অংশ। ফু কুওককে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বিমান যোগাযোগের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন যুক্ত হওয়া এয়ারবাস এ৩৩০ বিমানটির সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ১৩ হাজার ৪৫০ কিলোমিটার। এর ফলে ফু কুওক থেকে সরাসরি রাশিয়া, কাজাখস্তান, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে নির্বিঘ্নে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে ইউরোপের দূরবর্তী দেশগুলোতেও রুট সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। নতুন এই উড়োজাহাজে তিনটি শ্রেণিতে মোট ২৪৭টি আসন রয়েছে, যার মধ্যে ২০টি বিজনেস ক্লাস, ২১টি প্রিমিয়াম ইকোনমি এবং ২০৬টি ইকোনমি ক্লাসের আসন। কেবিনের বিজনেস ক্লাস আসনগুলো ১-২-১ বিন্যাসে এবং ইকোনমি ক্লাস আসনগুলো ২-৪-২ বিন্যাসে সাজানো হয়েছে, যেখানে যাত্রীদের জন্য ওয়াই-ফাই ও ব্যক্তিগত বিনোদনের সুবিধাও রয়েছে।
সান ফু কুওক এয়ারওয়েজ ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ১০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ৩২টি উড়োজাহাজ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালে ৫৮টি, ২০২৮ সালে ৬৮টি, ২০২৯ সালে ৮২টি এবং ২০৩০ সালে ১০০টি উড়োজাহাজ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বহরে থাকবে ৬৫টি ন্যারো-বডি এবং ৩৫টি ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ। এর পাশাপাশি ২০২৮ সাল থেকে অতিরিক্ত বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে সংস্থাটি ৪০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিও করেছে, যেগুলো ২০৩১ থেকে ২০auto-৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
বিমানবহরের অগ্রগতির সঙ্গে মিল রেখে ফু কুওক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামোও উন্নত করা হচ্ছে। অ্যাপেক ২০২৭ সম্মেলন ও ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদার কথা মাথায় রেখে টার্মিনাল-১ আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন টার্মিনাল-২ তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের এপ্রিলে চালু হতে যাওয়া এই টার্মিনাল-২ এর প্রাথমিক বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে প্রায় ২ কোটি। বিমানবহর ও বিমানবন্দরের এই যৌথ আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করতে চায় সান ফু কুওক এয়ারওয়েজ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্যে ২০ আসনের বিজনেস শ্রেণি, ২১ আসনের প্রিমিয়াম ইকোনমি এবং ২০৬ আসনের ইকোনমি শ্রেণি রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিন শ্রেণির কেবিনেই ব্যক্তিগত বিনোদন ব্যবস্থা ও ওয়াই-ফাই সুবিধা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com