
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মাদক নির্মূলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার প্রধান দায়িত্ব জনগণের। আর জনগণ তথ্য দেওয়ার পরও যদি পুলিশ সেই অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব তাঁর নিজের। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দিনাজপুরের বিরামপুরে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু থানা পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, 'কারা মাদক নিয়ে আসছে, কারা বিক্রি করছে বা গ্রহণ করছে—এসব তথ্য স্থানীয় জনগণ পুলিশের চেয়ে অনেক ভালো জানেন। ফলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এবং মা, ভাই-বোন ও মুরব্বিদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই অভিশাপ দূর করা সম্ভব নয়।' এই সামাজিক ব্যাধি রুখতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা জনগণের নাগরিক দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।
অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও জানান, নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সামাজিক পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাদকের কারণে সমাজে তৈরি হওয়া অস্থিরতা দূর করতে তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সামাজিকভাবে মাদক প্রতিরোধের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি প্রতিটি পাড়া, গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা স্তরে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। স্থানীয় পর্যায়ে এসব কমিটির মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দিনাজপুরের বিরামপুরে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদক পুরোপুরি দূর করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘মা, ভাই-বোন, মুরব্বিরা যারা এখানে বসে আছেন—আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া থানা পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট এটা দমন করতে পারবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কে কোন গ্রামে-পাড়ায়, কোন দিক দিয়ে মাদক ঢোকে, কে বিক্রি করে, কে খায়—এটা আপনারা-আমরা যত ভালো জানি, থানা পুলিশ তত ভালো জানে না।’।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com