
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড বা বহিরাঙ্গন এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের কাজের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত বিবরণ চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদের সই করা ওই চিঠিতে ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) বা কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করে জমা দিতে বলা হয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের এভিয়েশন সিকিউরিটি বিভাগের পরিচালক উইং কমান্ডার আশফাক ওয়ালী জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রতিবেদন পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অন-সাইট নিরাপত্তা অডিট অনুষ্ঠিত হবে। এই অডিটে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করা হবে। তাই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কাজের ক্ষেত্র ও দায়িত্বের সীমা পরিষ্কার থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র বলছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এপিবিএনকে চিঠি দিলেও ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। এর আগেও কর্তৃপক্ষ লিখিত বিবরণ চেয়েছিল, তবে তা সরবরাহ করা হয়নি। সাধারণত এপিবিএন বিমানবন্দরে মোতায়েনের শুরুর দিকে একবার কাজের বিবরণ দিয়েছিল। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার স্বার্থে ল্যান্ডসাইড এলাকার কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক করতে জরুরি ভিত্তিতে এই এসওপি তৈরি করতে বলা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চাওয়া হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি।
ব্রিটিশ সরকারের পরিবহন বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা জাতীয় বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে ল্যান্ডসাইড নিরাপত্তা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে। আইনি কাঠামো অনুযায়ী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের একক নিয়ন্ত্রক। সেই অনুযায়ী, ল্যান্ডসাইড নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে রয়েছে এপিবিএন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোন সংস্থা কীভাবে দায়িত্ব পালন করে, অডিটের সময় সেটিও পর্যালোচনা করা হবে।
এ বিষয়ে ১৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শেখ বশির উদ্দিন জানান, তারা চিঠি পেয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন। এর মধ্যেই সম্প্রতি এপিবিএন সদস্যদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিষয়টি বিমানবন্দর সংক্রান্ত জাতীয় কমিটিতেও আলোচিত হয়েছে এবং এপিবিএনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত এসওপি শেষ পর্যন্ত বেবিচক সদরদপ্তরে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com