অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৫ নং নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারসংলগ্ন সোনাতলা নদীর তলদেশ দিয়ে নেওয়া পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈদ্যুতিক সংযোগের তার কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তলদেশে থাকা বৈদ্যুতিক তার বিভিন্ন সময়ে কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে হাজিপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোনাতলা নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের তার কেটে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃতপক্ষে কারা বৈদ্যুতিক তার কাটার সঙ্গে জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের বক্তব্যে আব্দুল্লাহকে ঘিরে অতীতের আরও কয়েকটি চুরির অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। তাদের দাবি, এলাকায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, গবাদিপশু, জেলেদের ট্রলার ও মাছ ধরার জাল চুরিসহ বিভিন্ন ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), আদালতের নথি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে সত্য ঘটনা হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট নথি ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—অতীতে একই ব্যক্তিকে ঘিরে একাধিক চুরির অভিযোগ উঠে থাকলে সেসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো তদন্ত করেছিল কি না। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি থেকে শুরু করে নদী ও খালকেন্দ্রিক জেলেদের সরঞ্জাম চুরির অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে ট্রলার ও মাছ ধরার জাল চুরির অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নাকি কোনো একটি চক্রের সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে—তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
তাদের মতে, পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে থানার জিডি ও মামলা রেজিস্টার, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, আদালতের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রেকর্ড যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, অতীতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।
তবে এই অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। কারও সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ বা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় থাকলেই অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, রাজনৈতিক সংগঠনের স্থানীয় রেকর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
সোনাতলা নদীর বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা আব্দুল্লাহর মামা হাকিম সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন বলে জানা গেছে। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ‘আপনি যা পারেন, তা করেন’—জাতীয় বক্তব্য দেন। কথোপকথনের পূর্ণ রেকর্ড ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ লাইন, কন্ডাক্টর, ট্রান্সফরমার বা বৈদ্যুতিক তার চুরি, অপসারণ, বিনষ্ট বা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিসাধনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। একইভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সরবরাহ লাইন কেটে দেওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষেত্রেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অতএব, হাজিপুর বাজারসংলগ্ন সোনাতলা নদীর তলদেশের বৈদ্যুতিক তার কেটে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে ঘটনার ধরন, ক্ষয়ক্ষতি ও সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগের তার যদি একাধিকবার কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নজরে এসেছিল কি না—এ প্রশ্নও উঠেছে।
একই সঙ্গে নদীর তলদেশের বৈদ্যুতিক তার কাটতে কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, কারা সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে এবং কাটা তার কোথায় নেওয়া বা বিক্রি করা হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাম্প্রতিক বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ নয়, আব্দুল্লাহকে ঘিরে অতীতে ওঠা বিভিন্ন চুরির অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হোক।
এ জন্য পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের ভাষ্য, অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়; বরং তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এই অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে সোনাতলা নদীর তলদেশের বৈদ্যুতিক সংযোগের নথি, পূর্বে তার কাটা ও মেরামতের ঘটনা, পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেকর্ড, স্থানীয় থানায় কোনো জিডি বা মামলা হয়েছে কি না এবং কথিত ট্রান্সফরমার, ট্রলার, জাল ও গবাদিপশু চুরির অভিযোগের নথি যাচাই করা হবে।
পাশাপাশি এসব ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কী এবং বর্তমান বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগের সঙ্গে পুরোনো ঘটনাগুলোর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে।
তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই এই অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য।
চাইলে এটিকে আমি আরও জোরালো প্রথম পাতার অনুসন্ধানী রিপোর্ট হিসেবে ২–৩টি বিকল্প শিরোনাম, সাবহেড ও একটি শক্তিশালী লিডসহ সাজিয়ে দিতে পারি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com