
সোনাতলা নদীর বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পর মাঠে পল্লী বিদ্যুৎ ✓
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—দ্বিতীয় পর্ব
আল আমিন :
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৫ নং নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারসংলগ্ন সোনাতলা নদীর তলদেশ দিয়ে নেওয়া পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বৈদ্যুতিক সংযোগের তার কেটে চুরির অভিযোগ নিয়ে দৈনিক বর্তমান কথা ও দৈনিক ক্রাইম বাংলায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরেজমিন তদন্তে নেমেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা জানতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন এজিএম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের তার কেটে নেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
ঘটনাস্থলে এজিএম, নেওয়া হয়েছে সাক্ষীদের তথ্য
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম স্থানীয়দের কাছ থেকে সোনাতলা নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক সংযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। অভিযোগ সম্পর্কে যারা প্রত্যক্ষভাবে তথ্য দিতে পারেন, তাদের নাম-ঠিকানা ও বক্তব্যও সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগে যেসব ব্যক্তির নাম এসেছে, তাদের সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসার আশ্বাস
তথ্য সংগ্রহের সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, অভিযোগটি প্রয়োজনীয়ভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যারাই প্রকৃতভাবে দায়ী হিসেবে শনাক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগের তার কাটা হয়েছে এবং কেটে নেওয়া তার কোথায় গেছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে স্থানীয়দের জানানো হয়েছে।
পুরোনো অভিযোগও কি তদন্তে আসবে?
বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগের পাশাপাশি স্থানীয়দের বক্তব্যে অতীতে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, গবাদিপশু, জেলেদের ট্রলার ও মাছ ধরার জাল চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।
তবে এসব পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান বৈদ্যুতিক তার কাটার ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনায় জিডি, মামলা বা লিখিত অভিযোগ হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট নথিও যাচাই করা হোক।
তার কাটার সময়, স্থান ও পরিবহন—উঠছে একাধিক প্রশ্ন
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—বৈদ্যুতিক তার ঠিক কোন স্থান থেকে কাটা হয়েছে, কখন কাটা হয়েছে, ঘটনার সময় এলাকায় কারা ছিলেন, কী ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল এবং কেটে নেওয়া তার কোথায় নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর।
সাক্ষীদের বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা গেলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পল্লী বিদ্যুতের নথিও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ
তদন্তের স্বার্থে সোনাতলা নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক সংযোগের নকশা, সংযোগের দৈর্ঘ্য, তারের ধরন, পূর্বে তার কাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো রেকর্ড, মেরামতসংক্রান্ত নথি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার রিপোর্ট যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে আগে কোনো সাধারণ ডায়েরি, মামলা বা লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের প্রত্যাশা, সংগৃহীত সাক্ষ্য, নথি ও অন্যান্য তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।
তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা
দৈনিক বর্তমান কথায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএমের সরেজমিন পরিদর্শন ও সাক্ষীদের তথ্য সংগ্রহ ঘটনাটিকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারা প্রকৃতভাবে দায়ী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এখন দেখার বিষয়—সংগৃহীত সাক্ষীদের বক্তব্য, নাম-ঠিকানা, পল্লী বিদ্যুতের নথি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে তদন্তে কী বেরিয়ে আসে। বৈদ্যুতিক তার কাটার অভিযোগের প্রকৃত রহস্য কী এবং এর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি এলাকাবাসীর।
চলবে…
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com