
স্থানীয়দের দাবি, ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ | ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ | তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৫ নম্বর নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চুরির সময় রুহুল ফকির (৫০) ও লিমন মুন্সী (৩০) নামে দুই ব্যক্তিকে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেছেন বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর দুই ব্যক্তিকে প্রায় রাত ১২টা পর্যন্ত সাধারণ মানুষ নিজেদের হেফাজতে রাখেন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে কী কারণে এবং কার নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সমাজসেবক মাওলানা হারুন আর রশিদ বলেন, চুরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করার পরও যথাসময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা জানতে পেরেছেন। এভাবে ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ অপরাধীদের আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরে উৎসাহ হারাতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, হাজিপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় এর আগেও বৈদ্যুতিক তার, ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আগের কয়েকটি চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক নথি প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কথিত চুরি চক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, ওই জনপ্রতিনিধির প্রভাবের কারণে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্তরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দুই ব্যক্তিকে আটকের খবর সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সত্যিই যদি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন? কারা তাদের ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ঘটনার সময় প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাজিপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরি, ট্রান্সফরমার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ে পুরোনো অভিযোগ, দুই ব্যক্তিকে আটকের দাবি এবং পরে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে চুরির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা এবং কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী ব্যক্তি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তার সত্যতাও বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com