
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার চলতি বছরের ১৬ মার্চ ২০টি বিশেষ উদ্যোগ ঘোষণা করে। এর মধ্যে সাতটি উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকি ১৩টি উদ্যোগ বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, সেবা সহজীকরণ এবং নতুন সুযোগ তৈরির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এসব পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সেসময় বলেছিলেন, ‘বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের যে লক্ষ্য, এই পরিকল্পনা তারই অংশ। তবে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে।’। চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।
বিনিয়োগের সমস্যা দূর করতে এবং সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগগুলোকে তিনটি মূল স্তম্ভে ভাগ করা হয়েছে: শক্তিশালী অবকাঠামো, বিনিয়োগে সহায়তা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন। আমরা বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে অবকাঠামো, সেবার মান এবং সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছি।
নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ ১৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করেছে, যার মধ্যে ৪০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দেশভিত্তিক সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে চীন থেকে ৬০ কোটি ডলার, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩০ কোটি ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০ কোটি ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১০ কোটি ডলার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ইতিমধ্যে সক্রিয় রয়েছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ৩০ কোটি ডলার করে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও বস্ত্র খাতে ২০ কোটি ডলার করে বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, হালকা প্রকৌশল এবং চামড়াজাত পণ্যের মতো খাতগুলোকে বিনিয়োগের জন্য দ্রুত উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ১৪ দিনের একটি ‘বিজনেস রেডিনেস প্যাকেজ’ও তৈরির কাজ চলছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা থাকবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি জানিয়েছেন, পাঁচটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার একরের বেশি জমিতে ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে পোর্টফোলিও তৈরির কাজ চলছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পিপিপি ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যা দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া আনবে। এছাড়াও ২০২৬ সালের মধ্যে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ টনে পৌঁছাবে। এটি চালু হলে ৭০০’র বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com