নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব আজ রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকাসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের নবনির্মিত ১ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় মন্ত্রিসভার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপন বা স্থানান্তরের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানটি জিয়া উদ্যানের উত্তর দিকে এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। প্রায় ৩২ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে এ উদ্দেশ্যে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ হয়। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
তৎকালীন পরিকল্পনায় জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল নকশা অনুসরণ করে সচিবালয় নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। নকশা অনুযায়ী, ১৪ তলা ভিত্তির ওপর নয়তলাবিশিষ্ট চারটি মূল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
গত ১৪ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের জানিয়েছিলেন, আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রায় চার মাস আগে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়। প্রথমে বর্তমান সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের চিন্তা করা হয়েছিল। পরে মন্ত্রিসভার আলোচনায় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকাকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি আসে। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সংকট, পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের অভাব এবং পুরোনো ভবনগুলোকে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সচিবালয়ের বাইরে রয়েছে এবং অধিকাংশ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। নতুন সচিবালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৩০ থেকে ৩২ লাখ বর্গফুট জায়গা রাখার চিন্তা রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
এর আগে বর্তমান সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
এদিকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাবও আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, এ নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের পেছনে ভাষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধান, নারীবিষয়ক বিভিন্ন আইন, বিধিমালা ও নীতিমালার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে ‘মহিলা’ শব্দের পরিবর্তে ‘নারী’ শব্দটি অধিক ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের নাম ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। একই বছরের ৭ জুলাই প্রথম আন্তমন্ত্রণালয় সভা এবং ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রণালয়, এর অধীন দপ্তর ও সংস্থা এবং ‘মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা’ পদের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া গত বছরের ২৭ এপ্রিল প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায়ও নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তর ও মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয় আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন পেলে নতুন প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, ব্যয় ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রশাসনিক কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নামেও পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ আল আমিন খান , মোবাইলঃ ০১৩০৪৩৬৭৪৮১. ই-মেইলঃ dailycrimebangla@gmail.com