Array ছয় মাসের কর্মমূল্যায়নে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস, পরিবর্তনের তালিকায় একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী উপশিরোনাম: নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মসম্পাদনের মূল্যায়নকে সামনে রেখে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, ছয় মাস পর সেই কর্মসম্পাদনের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কারা বাদ পড়ছেন বা কারা নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন—এ বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সেগুলোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি। আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নাম রয়েছে। এছাড়া কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী সম্পর্কেও পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, সম্ভাব্য রদবদলের অংশ হিসেবে নতুন কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও টেকনোক্র্যাটকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব তথ্যও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর সরকারের কর্মসম্পাদনের মূল্যায়ন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশেদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এখনো সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেন, সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নুরুল আমিন বেপারীর মতে, প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং বিতর্ক এড়িয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। এদিকে, রাষ্ট্রপতির শূন্যপদে প্রার্থী মনোনয়নসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ, সংসদের উপনেতা নির্বাচন এবং মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য পুনর্গঠন নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। উপশিরোনাম: নিজস্ব প্রতিবেদক: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে অভিযোজন কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার। বিশেষ করে উপকূলীয় ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের নারীদের সহনশীলতা বৃদ্ধি, জীবিকা সুরক্ষা এবং নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে জলবায়ু-সংবেদনশীল কর্মসূচি ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের মতে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং শ্রমের লিঙ্গভিত্তিক বিভাজনের কারণে দুর্যোগের সময় ও পরবর্তী সময়ে নারীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব ও চাপ সৃষ্টি হয়। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার নারী-কেন্দ্রিক অভিযোজন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জলবায়ু বাজেটে ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযোজনে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ কর্মসূচির জন্য ৬ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জীবিকা উন্নয়ন এবং অভিযোজন সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জন্য বিশেষ অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া, জীবিকা সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মতো লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় সরকার জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করছে। এর অংশ হিসেবে ব্রি ধান-৬৭ চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যাতে লবণাক্ততার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিকাজ পুনরুজ্জীবিত হয় এবং গ্রামীণ নারীরা খাদ্য উৎপাদন ও পারিবারিক আয় বাড়ানোর সুযোগ পান। জলবায়ু অভিযোজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে সরকার ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই অর্থ প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নির্মিত ও সংস্কার করা ঘূর্ণিঝড় এবং দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ওয়াশ ব্লক এবং নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা বজায় থাকে। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও পৃথক শৌচাগার নির্মাণ করছে। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। গ্রামীণ হাট-বাজারে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক বিপণন এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে তারা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করে পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করতে পারেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদনের ভূমিকায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই জলবায়ু-সহনশীল ও জলবায়ু-সংবেদনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, নতুন বাজেটের অন্যতম কৌশলগত অগ্রাধিকার হলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, টেকসই, জলবায়ু-সহনশীল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে, যা হবে প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনশীল, ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহনশীল অবকাঠামো, জীবিকা উন্নয়ন এবং নারীর ক্ষমতায়নকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ‘ফ্রি কোটা অর ডাই’ লিখে রাজপথে প্রতিবাদের প্রতীক: জুলাই আন্দোলনের সাহসী মুখ আব্দুল্লাহ আল মামুন উপশিরোনাম: নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৮৭ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নূর হোসেনের বুকে লেখা ‘স্বৈরাচার নীপাত যাক’ স্লোগান যেমন এক সময় গণআন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের রাজপথে বুকে-পিঠে প্রতিবাদী স্লোগান লিখে আলোচনায় আসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কর্মী মামুনের শরীরে লেখা ‘ফ্রি কোটা অর ডাই’, ‘কোটা থেকে মুক্তি দে, নইলে মোরে কবর দে’, ‘দফা ১, দাবি ১—কোটা নট কামব্যাক’-সহ বিভিন্ন স্লোগানের ছবি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তার সেই প্রতিবাদী উপস্থিতি আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বার্তিপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা আব্দুল্লাহ আল মামুন নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন। পরিবারের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সন্তান হিসেবে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেও জুলাই আন্দোলনে তিনি রাজপথের সম্মুখসারির মুখ হয়ে ওঠেন। মামুন জানান, মাত্র ১৫০ টাকার রঙ কিনে টানা তিন দিন নিজের বুকে ও পিঠে বিভিন্ন স্লোগান লিখে আন্দোলনে অংশ নেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ষোলশহর, টাইগারপাস, মুরাদপুর, নিউমার্কেট ও বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিলের সামনের সারিতে অবস্থান করতেন তিনি। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে নির্বাচন, গুম, খুন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার ঘটনাগুলো তাকে আন্দোলনে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছে। মামুনের দাবি, আন্দোলনের প্রথম দিকে তার বুকে লেখা স্লোগানের ছবি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থায় প্রকাশিত হয়। পরে সেটি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনের সময় তিনি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হুমকির মুখে পড়েন। নিরাপত্তার কারণে প্রায় প্রতিদিনই আশ্রয় পরিবর্তন করতে হতো। ১৫ জুলাই মুরাদপুর এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এক মধ্যবয়সী নারী নিজের ছেলের টি-শার্ট পরিয়ে তাকে হোটেলকর্মীর ছদ্মবেশে হামলাকারীদের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন। মামুন জানান, আন্দোলনের সময় তার ছবি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে তাকে বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ জানায়। কিন্তু তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। এমনকি একপর্যায়ে ছোট বোনকে নিজের ঋণ পরিশোধের কথাও বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। আন্দোলনে নিহত সহপাঠী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মামুন। তিনি বলেন, হৃদয় একসময় তাকে বলেছিলেন—সামনের সারিতে থাকায় প্রথম গুলিটা হয়তো তার বুকেই লাগবে। কিন্তু ১৮ জুলাই বহদ্দারহাটে তার আগেই হৃদয় নিহত হন, যার স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আন্দোলনের সাহস কোথা থেকে পেয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তিউনিসিয়ার আরব বসন্তের প্রতীক মোহাম্মদ বুয়াজিজি এবং ১৯৮৭ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার ভাষায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস তিনি সেখান থেকেই পেয়েছেন। ‘শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে’—এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম উপশিরোনাম: নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দাবি করেন, দেশে ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিচার সম্পন্ন হওয়া উচিত। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবির মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি হলে আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তার ভাষ্য, মুজিববাদভিত্তিক রাজনীতির জনগণের সমর্থন হারিয়েছে এবং এর পুনরুত্থানের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আন্দোলনের প্রকৃত নেতৃত্ব দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতরা। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতাসীন বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশে আবারও আমলাতান্ত্রিক দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি এবং জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র সংস্কারের স্বার্থে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। একই সঙ্গে গণভোট আয়োজন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি। তিনি জুলাই গণহত্যাসহ সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ার সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের আহ্বানও জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, শহীদ জাবেরের মা রোকেয়া বেগম এমপি এবং জাতীয় নারী শক্তির মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম এমপি। ‘বিভেদের রাজনীতি চললে স্বৈরাচারের ফেরার সুযোগ তৈরি হবে’—রুহুল কবির রিজভী উপশিরোনাম: নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এর একটি গভীর দার্শনিক ভিত্তি রয়েছে। বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি অব্যাহত থাকলে স্বৈরাচারী শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নাগরিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং নির্ভয়ে বেঁচে থাকার অধিকারের প্রতীক। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এতে বিএনপি, ছাত্রদল এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্যকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্যথায় স্বৈরাচারী শক্তি সেই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। রিজভী আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে রাজনীতি ও নাগরিক অধিকারকে দমন করেছিলেন। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে এবং সমাজে ঘৃণা ও বিভেদ ছড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের আত্মত্যাগের মূল্য ক্ষুণ্ন হবে। তিনি দাবি করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির শুরু থেকেই বিএনপি পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। এসব আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিক, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার মানবকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং নার্সদের পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নার্সদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আহত ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে তারা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নার্সরা স্বাস্থ্যসেবার প্রথম সারির যোদ্ধা। তাই তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন নিশ্চিত না করলে দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, অতীতের সরকার স্বাস্থ্যখাতকে অবহেলা করলেও বর্তমান সরকার এ খাতের সংস্কার ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মূল্যায়ন প্রায় শেষ; নতুন মুখ যুক্ত করার আলোচনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীরজলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীকেন্দ্রিক অভিযোজন কৌশল, সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে বড় বিনিয়োগ
নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো ও জীবিকা সুরক্ষায় হাজার কোটি টাকার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকারনারীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ৬ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকার বরাদ্দ
লবণাক্ত এলাকায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ
নারীদের জন্য জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক বিপণন ব্যবস্থা
টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অঙ্গীকার
শহীদ নূর হোসেনের প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে আলোচনায় আসা চবি শিক্ষার্থীর আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিরোধিতা; বিচার, সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান; নার্সদের অবদানকে ‘মানবতার দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
উপশিরোনাম:
সোলার ইনভার্টারের কাঁচামাল আমদানায় সহায়তা ও সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় করতে অর্থনৈতিক মডেল তৈরির নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌরবিদ্যুৎকে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করতে কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌরবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এগুলো হলো—পর্যায়ক্রমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপন, সোলার ইনভার্টার উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা প্রদান এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি।
প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহ বাড়বে। তাই সরকারি পর্যায় থেকেই নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
সভায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সম্ভাবনা ও সুবিধা নিয়ে পৃথক উপস্থাপনা করে। তারা জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সভায় ভোক্তাদের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, প্রতিষ্ঠানের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ সভার সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমকে জানান।
]]>মিঠা পানির মাছে উত্তরবঙ্গের সাফল্য, রাজশাহী এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ সরবরাহ কেন্দ্র
উপশিরোনাম:
বছরে ৫ লাখ টনের বেশি উৎপাদন; ঢাকাসহ ২৫ জেলায় সরবরাহ, ভারতে বাড়ছে প্রক্রিয়াজাত মাছের রপ্তানি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশব্যাপী বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মিঠা পানির মাছ উৎপাদন ও সরবরাহকারী অঞ্চলে পরিণত হয়েছে রাজশাহী বিভাগ। উন্নত চাষাবাদ, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক উদ্যোগের ফলে এ অঞ্চলের মৎস্য খাত এখন গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগে উৎপাদিত মিঠা পানির মাছ বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ২৫টি জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও বাংলাদেশি প্রক্রিয়াজাত মাছ রপ্তানির বড় একটি অংশ রাজশাহী থেকেই যাচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া জানান, বিভাগের আটটি জেলায় মোট ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৩টি পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। এ খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। বছরে এখানে ৫ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি মিঠা পানির মাছ উৎপাদিত হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর রাজশাহী বিভাগ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ সরবরাহ করা হয়। এ খাতকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
কার্প জাতীয় মাছ উৎপাদনে নাটোর ও নওগাঁ জেলা শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। প্রতিদিন রাজশাহী থেকে পাঁচ শতাধিক ট্রাকে জীবন্ত মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে শুধু রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা গ্রাম থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫০ ট্রাক মাছ ঢাকা ও অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হয়।
পারিলা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি গত ১৪ বছর ধরে বিশেষ জলীয় পদ্ধতিতে জীবন্ত মাছ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠাচ্ছেন। প্রায় ২২ বিঘা জমির পুকুরে মাছ চাষ করে তিনি নিয়মিত বাজারজাত করছেন।
তিনি বলেন, একসময় ব্যবসা শুধু রাজশাহীতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জীবন্ত মাছ সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি ট্রাকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি মাছ পরিবহন করা যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অক্সিজেনযুক্ত পানিতে জীবন্ত মাছ পরিবহনের আধুনিক ব্যবস্থার কারণে রাজশাহীর মাছের চাহিদা দেশের বাজারে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে রাজশাহী থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, আগে সীমিত আকারে মিশ্র পদ্ধতিতে মাছ চাষ হলেও এখন পুরো বিভাগজুড়ে আধুনিক ও বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদন হচ্ছে। রুই, কাতলা ও মৃগেলের পাশাপাশি পাবদা, শিং, কই ও মাগুর মাছের চাষও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজশাহী থেকে নিয়মিত পাবদা মাছ ভারতে রপ্তানি হচ্ছে।
চাষিদের দক্ষতা বাড়াতে মৎস্য অধিদপ্তর প্রতি বছর ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মাছচাষিকে আধুনিক মৎস্য চাষ ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
তবে মাছের খাদ্যের মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। তারা মনে করেন, মৎস্য খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
]]>বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এমআইএসটি দলকে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা, তরুণ উদ্ভাবকদের পাশে থাকার ঘোষণা
উপশিরোনাম:
প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপে সরকারি সহায়তার আশ্বাস; সেমিকন্ডাক্টরসহ সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে তরুণ উদ্ভাবকরা। গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক আন্ডারওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন–২০২৬’-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তরুণ উদ্ভাবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। এই ধরনের উদ্ভাবন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তাহলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
সাক্ষাৎকালে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার রোবট প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
তিনি রোবটটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেন।
এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতে কাজ করার পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে নতুন প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী তাদের সেই উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
অর্থনীতির বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকস খাতকে আরও শক্তিশালী করে রপ্তানিমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরে এ শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ থেকে ২৯ জুন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে অনুষ্ঠিত ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন–২০২৬’-এ বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দলকে পেছনে ফেলে এমআইএসটির ‘মিস্ট ম্যাভিরভ’ দল বিশ্বচ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র রানার্স-আপ এবং স্বাগতিক কানাডা তৃতীয় স্থান লাভ করে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিজয়ী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
]]>সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে যোগ মানেই ইরানবিরোধী অবস্থান নয়: প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
উপশিরোনাম:
‘হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশগ্রহণ, সৌদির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে’
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এই জোটে যোগ দেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা দেশটিকে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নয়। বরং হুতি বিদ্রোহীদের সৃষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এ জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য।
রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হয়েছে হুতি বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে। একই সময়ে বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। ফলে এ সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই ইরানবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগদানের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু হজ ও ওমরাহ কিংবা ধর্মীয় যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও কৌশলগত ও বহুমাত্রিক হবে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদ—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। সে কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বিশেষ আত্মিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রশ্নে যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তাহলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকবে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হুতি বিদ্রোহীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান বা বৈরী পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।
]]>তিন মাস পর আবার এলপিজির দাম বৃদ্ধি, ১২ কেজি সিলিন্ডার ৭০ টাকা বেড়ে ১,৫৯৮ টাকা
উপশিরোনাম:
অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে; নতুন মূল্য রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তিন মাস পর আবারও বাড়ানো হয়েছে গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আগস্ট মাসের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে মূসকসহ ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন এই মূল্য একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, আগস্ট মাসের জন্য বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য প্রতি কেজি মূসকসহ ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। জুলাই মাসে এ দাম ছিল ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ৮৫ পয়সা দাম বেড়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ৫.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৩২ টাকা, ১২.৫ কেজির ১ হাজার ৬৬৪ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ১৩০ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৩৯৭ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৬৬৩ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৯২৯ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৩২৯ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৯৯৫ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ৩৯৪ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৬৬০ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৯৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। লিটারপ্রতি ৩ টাকা ২৭ পয়সা বাড়িয়ে নতুন মূল্য ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৭০ টাকা ৪০ পয়সা।
বিইআরসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর আগস্ট মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের কন্ট্রাক্ট প্রাইজ (সৌদি সিপি) বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্ট মাসে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬২০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের ৬৪০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। ৩৫:৬৫ অনুপাতে গড় সৌদি সিপি ৬৩৩ মার্কিন ডলার, যা জুলাইয়ের ৫৯৩ মার্কিন ডলারের তুলনায় ৪০ ডলার বেশি।
এছাড়া এলপিজি আমদানিতে জাহাজ ভাড়া, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম এবং ডলারের গড় বিনিময় হার ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা বিবেচনায় নিয়ে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।
বিইআরসি আরও জানায়, রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৯ টাকা ৪০ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটার ২৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সরকারি এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সরকারি ১২.৫ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের ভোক্তা মূল্য ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে।
একই সঙ্গে বিইআরসি সতর্ক করে জানিয়েছে, এলপিজি মজুত, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাসহ কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের বেশি দামে এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না।
]]>