• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মালামাল চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ব্যথাজনিত সমস্যায় চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে আলোচনায় হাকিম মাওলানা আব্দুল হান্নান কলাপাড়া বেকারি মালিক সমিতির কমিটি গঠন, সভাপতি আল আমিন সম্পাদক হারুন কলাপাড়ায় “গ্রাম আদালত” বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত জনগণের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশায় সংবিধান সংশোধনের আহ্বান চিফ হুইপের মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর, সৌরবিদ্যুতে ১,৫০০ কোটি টাকার তহবিল দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা, জাপান সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী

কলাপাড়ায় চায়না দূয়ারী জালের গ্রাসে বিলুপ্ত হচ্ছে দেশীয় মাছ/দৈনিক ক্রাইম বাংলা।। 

মোঃ নাহিদুল হক, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)থেকে / ২৭৭ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৩

মোঃ নাহিদুল হক,কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ব্যপী দেশীয় মাছ ধ্বংসের মহোৎসব চলছে।এ উৎসবে মেতেছে খাল বিলের মৌসুমী জেলেরা। ধ্বংস যজ্ঞের প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যাবহার হচ্ছে,  চায়না দূয়ারী, বুচনা, ভোডা, ভেশন ও কারেন্টসহ অসংখ্য জাল। এখনই ব্যাবস্থা না নিলে অচিরেই দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হবে বলছেন সচেতন মহল ও মৎস্য গবেষকরা। তাই প্রশাষনের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করছেন তারা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখাযায়, সদ্যজন্ম নেওয়া ছোট ছোট দেশীয় মাছের পোনায় সয়লাব শহর ও গ্রামীন মাছের বাজার। এর মধ্যে রয়েছে সিং,
মাগুর, কই, টাকি, পুটি, ভেদা, শোল ও বোয়ালসহ নানা জাতের মাছ। সব চেয়ে বেশি রয়েছে টেংরা মাছের পোনা। প্রতিটি মাছের চটে কারি কারি ছোট টেংরা মাছ। সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ২০ টাকা কেজী দরে বিক্রি হচ্ছে ওইসব মাছ। কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই এসব মাছ দেখা যাচ্ছে বাজারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন, “এ ছোড টেংরা মাছের জালায় অস্থির। জম্মের আনা আনে জাইল্লারা। ২০/ ৩০ টাহা কেজীতেও কেউ কেনতে চায়না। শেষ পর্যন্ত হালাইয়াও দেওয়া লাগে।”
কি জাল দিয়ে মাছগুলো ধরছে জানতে চাইলে ছগির (ছদ্মনাম) বলেন, চায়না দূয়ারী এবং বুচনা জালে দিয়ে ভিতর খালে এই টেংরা মাছের পোনা গুলো ধরা পরছে।
বাজারে মাছ কিনতে আসা অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা অফিসার মো: আবুল কালাম বলেন, প্রতিদিনই এ সকল মাছ বাজারে দেখছি। এভাবে ছোট মাছ ধ্বংস করা হলে অচিরেই দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হবে। আরও এক ক্রেতা নীলগঞ্জের সাবেক চেয়ারম্যান কামারুজ্জামান শহীদ মাতব্বর বলেন, এভাবে নির্বিচারে দেশীয় ছোট মাছ নিধন
হলে ভবিষ্যতে মাছ খুজে পাওয়া মুশকিল হবে নাগরিক উদ্যোগ আহবায়ক ও কমিউনিস্ট পার্টি কলাপাড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক কমরেড নাসির তালুকদার বলেন, বহুকাল ধরে পরিচিত একটি প্রবাদ বাক্য শুনে এসেছি মাছে ভাতে বাঙালী। তবে মাছ শুন্য থালায় সে কথা এখন মানতে নারাজ নতুন প্রজন্ম। ভাতের সাথে মাছ খাওয়া এখন আকাশ কুসুম ব্যাপার। এর প্রধান কারন নামে-বেনামে অনেক বিদেশী জাল জেলেদের হাতে পৌঁছে নির্বিচারে ছোট মাছ ধ্বংস করছে। আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিস ইকো ফিস (২)এর সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, চায়না দূয়ারী একটি অবৈধ জাল। এটি অবাধে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এই জালে দেশিয় মাছসহ বিলুপ্ত প্রায় কচ্ছপ প্রচুর
পরিমানে মারা যাচ্ছে। এখনি এধরণের অবৈধ জাল বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির মাছ সহ কচ্ছপ একেবারে বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ কাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণার পাশাপাশি প্রশাসনিক অভিযান জরুরী বলে মনে করেন তিনি।
এবিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা সারা বছরই কাজ করছি। যে সকল জেলেরা এই ধরনের কাজে লিপ্ত তাদের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ