
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ী বার্তায় প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থ, শ্রদ্ধা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকা ত্যাগের আগে ‘আবার দেখা হবে’ শীর্ষক এক বিদায়ী বার্তায় তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে “বিশেষ ও অনন্য” হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রণয় ভার্মা শিগগিরই বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
বিদায়ী বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ঢাকায় প্রায় চার বছরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সময়ে দুই দেশেই নানা পরিবর্তন এসেছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও অংশীজন যুক্ত হয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বাংলাদেশে তার দায়িত্বকালকে তিনি “সমৃদ্ধ ও ফলপ্রসূ” হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
প্রণয় ভার্মা বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারত শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আবেগীয় সম্পর্কেও গভীরভাবে যুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, “একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ভারতের স্বার্থের সঙ্গে যেমন জড়িত, তেমনি একটি সমৃদ্ধ ভারতও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
গত ৫৫ বছরে দুই দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত এখন আরও সক্ষম, সংযুক্ত ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজে পরিণত হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নেও দেশ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত স্থায়িত্বসহ অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই কূটনীতিক। পাশাপাশি আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি “নতুন ও ভবিষ্যতমুখী এজেন্ডা” গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, এই কাঠামো দুই দেশের পরিবর্তিত সক্ষমতা, উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্যকে বাধা নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। দুই দেশের অংশীদারদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিদায়ী এই হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং এ দেশে অবস্থানকালে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের স্মৃতি সবসময় তার কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে।