• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৭ নভেম্বর: রাজনৈতিক ঐক্য ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মালামাল চুরি, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ শিশু-কিশোরদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী ব্যথাজনিত সমস্যায় চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিয়ে আলোচনায় হাকিম মাওলানা আব্দুল হান্নান কলাপাড়া বেকারি মালিক সমিতির কমিটি গঠন, সভাপতি আল আমিন সম্পাদক হারুন কলাপাড়ায় “গ্রাম আদালত” বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত জনগণের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশায় সংবিধান সংশোধনের আহ্বান চিফ হুইপের মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের কুইক রেন্টালের পরিবর্তে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর, সৌরবিদ্যুতে ১,৫০০ কোটি টাকার তহবিল দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

একাত্তরের অবস্থান পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী

রিপোর্টার: / ৫৮ পঠিত
আপডেট: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রয়াত ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাইলেও পরোক্ষভাবে একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) আয়োজিত এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী দলটির রাজনৈতিক অতীত ও বর্তমান অবস্থানের নানা দিক তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক তার বইয়ে দলটিকে ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক যে রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণের মাধ্যমে একটি বিবৃতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, সেটি যদি তৎকালীন সময়ে গৃহীত হতো, তবে জামায়াত অনেক জটিল প্রশ্নের সমাধান করতে পারত। তিনি দাবি করেন, জামায়াত এখন সেই অবস্থানই মেনে নিয়েছে। আসাদুজ্জামান আরও বলেন, চাপিয়ে দেওয়া ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা একটি ভ্রান্ত নীতি; বরং সমাজ থেকে উঠে আসা মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়াই সঠিক পথ। বইটি গবেষকদের জন্য এক ধরণের এনসাইক্লোপিডিয়া হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

আইনমন্ত্রী জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২-এ মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামীর ভূমিকার উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সংশোধনীর পর ২০২৬ সালে আইনটি সংসদে উত্থাপনের সময় জামায়াত এতে নিজেদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানায়। আইনমন্ত্রী বলেন, আলোচনার পর মূল বিষয়বস্তু বজায় রেখে শুধুমাত্র ‘তৎকালীন’ শব্দটি যোগ করা হয়। চূড়ান্তভাবে সংসদে আইনটি পাস হওয়ার সময় জামায়াতের কোনো সদস্য এর বিপক্ষে ভোট দেননি। এটি রেকর্ডেড। তিনি মনে করেন, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং ওই আইনের বিপক্ষে ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত পরোক্ষভাবে একাত্তরের সেই বিতর্কিত ভূমিকা মেনে নিয়েছে। এর মাধ্যমেই ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দূরদর্শিতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্বের অনুপস্থিতির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি তাদের সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতা প্রকাশ করে। গণতন্ত্রে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে এবং রাজ্জাক সাহেবের বইয়ের সমালোচনা করার সুযোগ থাকলেও তারা তা গ্রহণ করেনি। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ, ওয়াশিংটন ভিত্তিক রাইট টু ফ্রিডমের প্রেসিডেন্ট জন ড্যানিলোভিচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ে ঠিক এইভাবে বিষয়টা এসেছে, আমি দেখলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি রাজ্জাক সাহেবের ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে, একটা রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা, দিস ইজ দ্য প্রোস ফর জুরিস্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই বইটা আমার কাছে সাহিত্য মনে হয়নি, গবেষণাধর্মীও মনে হয়নি, এটা একটা জীবন্ত একজন মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজ্জাক সাহেব একটা সমাজকে তার জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তার জীবন দর্শন যেভাবে ছিল— এই বইটা তার একটা রিফ্লেকশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এখানে জামায়াতের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজকে জামায়াতের যারা মেইনস্ট্রিমের আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বা আমাদের এই অঙ্গনে পরিচিত, জামাতের যারা লিডারশিপে আছেন— আমার প্রত্যাশা ছিল আজকের আলোচনায় তারা থাকবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ