• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর আমূল সংস্কার জরুরি: ড. তিতুমীর নতুন তথ্য: সৌদি আরবে হুথি হামলার কঠোর নিন্দা জানাল ১৭ বছরে খাতায় কিছু না লিখলেও পাস করানো হতো এশিয়ান গেমস টর্চ রিলেতে শেখ জোয়ান একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের সেই স্টেটমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরলেন অনলাইনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার, হয়রানি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ: প্রতিকারের দাবি* ৯ দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় পাকিস্তানের কোহাতে পুলিশ সদর দপ্তরে হামলায় ঝরল ৩১ প্রাণ সৌদি আরব রক্ষায় শর্তহীন প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের থার্ড টার্মিনালে যাত্রীসেবা: ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মেনজিসের

একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের সেই স্টেটমেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরলেন

রিপোর্টার: / ৮ পঠিত
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ২০১৬ সালে যে খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন, সেটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, সেই সময় ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা হলে দলটির ইতিহাসের অনেক বিতর্কের সমাধান সহজতর হতো। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, পরবর্তীতে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় জামায়াত পরোক্ষভাবে সেই অবস্থান মেনে নিয়েছে। তিনি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সংজ্ঞায় তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংসদে এই আইনটি উপস্থাপনের পর জামায়াতে ইসলামী সংশোধনীটির বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দেয়নি। আসাদুজ্জামানের মতে, এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তারা কার্যত একাত্তরের দায়বদ্ধতাকে পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্জাকের দূরদর্শিতার কারণেই এই ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে সামনে আনা সম্ভব হয়েছে।

বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, তার কাছে এটি কেবল কোনো গবেষণা বা সাহিত্যের বই মনে হয়নি, বরং জীবন্ত একজন মানুষের অভিজ্ঞতার এনসাইক্লোপিডিয়া মনে হয়েছে। রাজ্জাক তার জীবনদর্শন ও সমাজ সচেতনতার মাধ্যমে যে উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেটিই তাকে আজকের দিনেও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে। প্রতিক্রিয়াশীলতার বৃত্ত ভেঙে জামায়াতকে একটি প্রগতিশীল ইসলামি ধারায় রূপান্তর করার স্বপ্নই এই বইয়ের মূল বিষয়বস্তু বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আব্দুর রাজ্জাক সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, তিনি সমাজ থেকে ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করার পক্ষে ছিলেন। ওপর থেকে শাসন চাপিয়ে দেওয়াকে তিনি ভ্রান্ত নীতি বলে মনে করতেন। আইনমন্ত্রী জানান, রাজ্জাকের সঙ্গে তার আদর্শিক মিল না থাকলেও আইন পেশার দীর্ঘ পথচলায় তারা পাশাপাশি কাজ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদী সময়ের প্রতিকূলতায় রাজ্জাকের নির্দেশনা তাকে পথ দেখিয়েছে।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতদের অনুপস্থিতিতে আক্ষেপ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, তারা উপস্থিত থাকলে বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের সুযোগ পেতেন, যা গণতন্ত্রের চর্চারই অংশ হতো। রাজ্জাকের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে আসাদুজ্জামান জানান, শেষ জীবনে তিনি বাংলাদেশে দাফন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যা জুলাইয়ের আন্দোলনের পর পূরণ হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার দাবি, পরবর্তী সময়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াত ওই অবস্থান পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই স্টেটমেন্টের আলোকেই জামায়াতের আজকের অবস্থান।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তৎকালীন আল-বদর, তৎকালীন রাজাকার, তৎকালীন মুসলিম লীগ ও তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে যারা বিরোধিতা ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ