
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন শহরে হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার। দোহা মনে করে, বেসামরিক নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি দেশটির অটুট সমর্থনের কথা পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে কাতার প্রশাসন জানায়, রিয়াদ ছাড়াও বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিরা যে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে রিয়াদের দিকে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে জোট দাবি করেছে যে, বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে চালানো অন্যান্য হামলাগুলোও ব্যর্থ করা হয়েছে।
এর আগে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়ি দাবি করেন, তারা রিয়াদের সংবেদনশীল কিছু স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছেন। তবে হুথিদের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রিয়াদ ও আল-খারজ এলাকায় আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা পরে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করা হয়। শনিবার রিয়াদের কাছে বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেশ বেড়েছে। জুলাই থেকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর রিয়াদে শনিবারের এই হামলাটিকে বড় ধরনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে হামলা চালানোর জন্য হুথিদের নিন্দা জানিয়েছিল কাতার। সৌদি ভূখণ্ডে বারবার এমন হামলার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইয়েমেনে চলমান সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পথে আসার আহ্বান জানিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় হুথিদের এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জোরদার হচ্ছে।