• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন

অক্টোবরেই ১০ এয়ারবাস কেনার চুক্তি: বিমানমন্ত্রী

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তি আগামী অক্টোবরে সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পরপরই এই ঘোষণা এলো। তবে নির্ধারিত সময়ে উড়োজাহাজ সরবরাহ পাওয়া নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকায় সরকার উড়োজাহাজ সংগ্রহের অন্যান্য উপায়গুলোও খতিয়ে দেখছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বর্তমান বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও এর মধ্যে দুটি প্রায় অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ফলে কার্যত ১৭টি উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে বর্তমান বহরের বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ পুরোনো হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, নতুন বিমান আসার আগ পর্যন্ত সক্ষমতা ধরে রাখতে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। লিজের এই ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনার স্লটগুলো আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। ১০টি যদি বাড়ানো যায়, তাহলে ১৭টি চলমান উড়োজাহাজের সঙ্গে আরও ১০টি যোগ হবে।

বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন ১১টি ও আগের ১৪টি মিলিয়ে মোট ২৫টি উড়োজাহাজের চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫-৩৬ সালের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি এয়ারলাইনসগুলো আধিপত্য বিস্তার করছে। দেশের অ্যাভিয়েশন খাত শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিউইয়র্ক ও সিডনি রুট পুনরায় চালুর পাশাপাশি জাপানে দ্বিতীয় ফ্লাইট চালু করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম বোয়িং উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালে দেশে আসার কথা।

এয়ারবাস কেনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ বা বিশেষ শর্ত রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো ধরনের চাপ নয়, বরং দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হবে এবং কোন দেশ থেকে কতটুকু কিনলে তা দেশের জন্য সাশ্রয়ী হবে, সেটিই আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয়। তখন আমাদের অনেকগুলো স্লট কাজে লাগানো সম্ভব হবে। কোন এয়ারক্রাফটটা কীভাবে আমাদের জন্য সুইটেবল, সেটা চিন্তা করেই কিন্তু আমরা করছি।

দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দেশের অ্যাভিয়েশন খাতকে স্বাবলম্বী করা। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নিজস্ব বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়লে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়বে এবং বিভিন্ন নতুন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা সহজ হবে। একইসঙ্গে সেবার মান উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে টিকিটের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। নিজস্ব এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থ দেশেই থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ