• মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ১০-এর সনদ প্রক্রিয়া স্থগিত করল এফএএ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত মাহাথির মোহাম্মদের সহধর্মিণী সিতি হাসমাহ হাভানার পাশে চীন, ট্রাম্পের ‘কিউবা ভেঙে পড়বে’ মন্তব্যের পর কাতারে বিশেষ গাড়ির নম্বর প্লেটের নিলাম ১ অক্টোবর থেকে কিশোর গ্যাংয়ের নেপথ্য কারিগরদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে এসআরবি অক্টোবরেই কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর তোড়জোড় অক্টোবরে শুরু হচ্ছে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ: রোসাটম পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ২০টি বোমা উদ্ধার, এলাকা ঘেরাও দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি: ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৮

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, প্রযুক্তিসেবা সহজতর করা এবং দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিদ্যমান কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পুনরায় পর্যালোচনা করবে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনীতে তিনি এই ঘোষণা দেন।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সিলিকন ভ্যালির গবেষক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

উপদেষ্টা ড. তিতুমীর প্রযুক্তিগত সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হতে হবে নাগরিক সেবার মান বাড়ানো এবং দেশবাসীর জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করা। তিনি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, যেন দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প নির্বাচন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা হয়। মূল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে নতুন শিক্ষাপদ্ধতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ও ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, সরকার শিক্ষা, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বিত ও শক্তিশালী যোগসূত্র স্থাপনে বদ্ধপরিকর। তিনি দেশের প্রযুক্তিগত মেধাকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা হলে তা দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহায়ক হবে। এটি কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো মৌলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ধরনের সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিশুদের মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল দক্ষতায় গড়ে তোলা অপরিহার্য। তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে এআই ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।

সংলাপে এআইয়ের প্রয়োগ ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. শরিফা সুলতানা, উবারের প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার ড. মোস্তফা পাটোয়ারী বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ তার মতামত তুলে ধরেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ ড. শতিল হক, ড. ইউসুফ হক, ড. ওমর ইশরাক, মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং বদরুল সারওয়ার। তারা বিনিয়োগ ও শিল্প খাতের অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্যানেলে অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

উপস্থিত প্রতিনিধিদল ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়ে এসব বিষয়ে ধারাবাহিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে কনস্যুলেট জেনারেল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ