• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

সাইবার আইন নিপীড়নমূলক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রিপোর্টার: / ২ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাইবার সিকিউরিটি আইনকে যাতে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত হতে না দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার সকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, এই আইনের খসড়া তৈরির পর ক্যাবিনেটের নির্দেশনায় স্টেকহোল্ডার, আইটি বিশেষজ্ঞ ও সাইবার স্পেসে কর্মরতদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে সংশোধনী আনার জন্য একটা খসড়া বিল আমরা রেডি করেছিলাম। ক্যাবিনেটে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমার যেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করি। আমরা মনে করি, সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটা সমৃদ্ধ হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সর্বস্তরের মানুষের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে আইনটির খসড়া ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছিল। সেখান থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত পরামর্শগুলো সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সাথে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি গণমাধ্যমকে হয়রানি করার জন্য নয়, বরং সমাজের সব স্তরের মানুষের সুরক্ষার জন্যই করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো সাংবাদিক যেন এই আইনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে সব পক্ষ কাজ করছে। এখন থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার একটি প্রস্তাব খসড়ায় রাখা হয়েছে। এছাড়া মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে, যাতে কাউকে অনির্দিষ্টকাল আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকতে না হয়। মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইনটা করতে চাইনি, চাইও না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক—সেটা আমরা চাই না।’ ‘যাতে সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য একটা প্রস। সেটাও আমরা দিছি, যাতে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত কেউ ঝুলে না থাকে।

আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, নোয়াব সভাপতি ও প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) মহাসচিব ও একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম।

সভা শেষে প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া এই আইন পাস করা হলে তা বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত করতে পারে। অন্যদিকে, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম আইনটির খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আইনের কিছু ধারায় মোবাইল কোর্টের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে একটি ভালো প্রস্তাব দেওয়া হবে, যা গণমাধ্যমের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ