• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

নেতানিয়াহুর আরব আমিরাত গোপন সফর ও নিরাপত্তা বিতর্ক

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহের সোমবার গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। সফরকালে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও রয়টার্সের জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা যায়, নেতানিয়াহু ব্যক্তিগত বিমানে করে দুপুরের পর আবুধাবিতে পৌঁছান এবং সেখানে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আমিরাতি দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। চ্যানেল–১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহের সোমবারে স্থানীয় সময় দুপুরের কিছুক্ষণ পর ব্যক্তিগত বিমানে করে নেতানিয়াহু আবুধাবির উদ্দেশে রওনা হন। তিনি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে সেখানে অবতরণ করেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে চার ঘণ্টা অবস্থান করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সতর্কবার্তা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা বা সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছানো হয়নি।

এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন হামাসের গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। অভিযোগ রয়েছে যে, হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই এমবিজেড নামে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজের দাবি, আমিরাতি নেতা তখন সতর্ক করেছিলেন যে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করছে। যদিও নেতানিয়াহু এই দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন এবং পত্রিকাটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। যুদ্ধের ব্যর্থতার জন্য বিরোধী নেতারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে আসছেন, যে কারণে এই সতর্কবার্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই তিনি নেতানিয়াহুকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। একই সময়ে তিনি কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মুখোমুখি হয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি এই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তারা জানিয়েছে, ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের পর থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে। আমিরাতের একটি সূত্র এর আগে রয়টার্সকে জানায়, তারা নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করলেও সাধারণত জাতীয় নেতাদের পর্যায়ে তা হয় না। তবে দুই দেশের মধ্যকার এই সম্পর্ক ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন পথ তৈরি করে দিয়েছে, যা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে।

নেতানিয়াহুর গোপন সফর নিয়ে বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। এর আগে চলতি বছরের মার্চে ওমান সীমান্তবর্তী আল-আইনে নেতানিয়াহু ও এমবিজেডের বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের কথা পরে প্রকাশ করে দেওয়ার কারণে তৎকালীন আমিরাতি কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তখন ওই বৈঠকের তথ্য ফাঁস করার পেছনে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। কারণ তিনি জানতেন, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত পরদিনই আমিরাত সফরে আসছেন। বেনেতের সফরকে গুরুত্বহীন করতে বা নিজের আধিপত্য বজায় রাখতেই তিনি গোপন বৈঠকের তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন, যা তখন দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছিল। বৈঠকটির বিষয়ে অবগত একটি সূত্র সে সময় জানিয়েছিল, ২৬ মার্চ আবুধাবির ওমান সীমান্তবর্তী মরূদ্যান শহর আল-আইনে নেতানিয়াহু ও এমবিজেড বৈঠক করেছিলেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের কঠিন প্রচারণা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়, অন্যদিকে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের জটিল সমীকরণ—সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর এই সাম্প্রতিক গোপন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির ফলে এই সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশই তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ