
ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্র সেবা গভম্যাপে (Govmap) কারিগরি ত্রুটির কারণে গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি সাময়িকভাবে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। সাধারণত এই মানচিত্রে পুরো গাজা উপত্যকা, ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনাগুলো ঝাপসা বা অস্পষ্ট রাখা হয়। গত সোমবার একটি এক্স অ্যাকাউন্ট প্রথম এই অসংগতি লক্ষ্য করে। যদিও দ্রুতই মানচিত্রের সংশ্লিষ্ট অংশগুলো আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলো মূলত ২০২৫ সালের, যার ফলে বর্তমানের সামরিক অবস্থানের সঠিক প্রতিফলন নাও থাকতে পারে। তবে এসব চিত্রে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনার অস্তিত্ব দেখা গেছে। এছাড়া জাবালিয়ার পূর্বাঞ্চলে মাটির প্রতিবন্ধক ও সামরিক যানের উপস্থিতি এবং গাজা সিটির জাইতুন এলাকার কার্নি ক্রসিংয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর সরব উপস্থিতি ধরা পড়েছে। যদিও মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তারা এই ছবিগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে সক্ষম হয়নি, তবে গাজায় ইসরায়েলি উপস্থিতির পূর্ববর্তী রিপোর্টের সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়। ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। পূর্ব জাবালিয়ায় মাটির তৈরি প্রতিবন্ধক ও সামরিক যানবাহনের উপস্থিতিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি তৈরির চিত্র অন্য একটি প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের দাবি অনুযায়ী, সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার এমন অন্তত ৪৩টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বেইত হানুন ও গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় বিশাল এলাকাজুড়ে ভবন ও অবকাঠামো ধূলিসাৎ হওয়ার বিষয়টিও এসব স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট। ওই অ্যাকাউন্টটি গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করে থাকে। ফলে অল্প সময়ের জন্য স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী।
এই সংবেদনশীল ছবি ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামরিক প্রয়োজনীয়তা এবং নিজেদের সেনাদের ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যেই ধ্বংসস্তূপ অপসারণ ও স্থাপনা তৈরির কাজ চালানো হচ্ছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই সব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও সুনির্দিষ্ট সামরিক নির্দেশনা মেনে পরিচালিত হচ্ছে।