
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমের প্রথম শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ‘নরইস্টার’ আঘাত হেনেছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে নিউইয়র্ক, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়াসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে। প্রবল ঝোড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নরইস্টারের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিমান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ঝোড়ো বাতাসে একটি গাছ উপড়ে ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাওয়ারআউটেজডটকমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই অঞ্চলগুলোর প্রায় ৬০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি জানিয়েছেন, ঝোড়ো বাতাসে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ অবস্থায় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে লং আইল্যান্ডে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২০ ফুট বা ৬ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে আকাশপথে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যমতে, শনিবার সকাল থেকে ওই অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোতে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই ২৫৩টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। জেবব্লু, ইউনাইটেড ও আমেরিকান এয়ারলাইনসের মতো বড় সংস্থাগুলো ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিনা ফিতে ফ্লাইট পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে বলে যাত্রীদের যাত্রা শুরুর আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের কারণে যেসব যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ফ্লাইট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।