
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক বর্ণাঢ্য সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রবাসে বসবাসরত মুসলিমদের ওপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজকে কোনোভাবেই তাদের নিজস্ব ভাষা, মৌলিক সংস্কৃতি এবং শিকড় ভুলতে বাধ্য করা যাবে না। তারা নিজেদের পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে যে দেশে বসবাস করছেন, সেই দেশের মূলধারার সমাজের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশে যাবেন বা অন্তর্ভুক্ত হবেন, কিন্তু জোরপূর্বক নিজস্ব সংস্কৃতি বিলীন করার যেকোনো অপচেষ্টাকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।
নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক গথাম হলে তুর্কি-আমেরিকান ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটিসহ (টিএএসসি) একাধিক স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও মুসলিম নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে তুর্কি রাষ্ট্রপ্রধান বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে মুসলমানদের বিদ্যমান সংকটজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের নিজস্ব সত্তা বজায় রাখার সুযোগ না দিয়ে বরং তাদেরকে স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে জোর করে মিলিয়ে নেওয়ার এক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নিজ মাতৃভাষায় কথা বলা বা নিজস্ব ঐতিহ্য চর্চা করা যে কোনো সমাজেই নাগরিক হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নিজেদের সামাজিক ও নাগরিক অধিকার সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রবাসী সকল নাগরিকের ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস প্রদান করে বলেন, আঙ্কারা যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে ও প্রবাসে তুর্কি নাগরিকসহ সমস্ত মুসলিম সমাজের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। মুসলিমদের অধিকার সুরক্ষায় তুরস্ক সবসময় তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।