• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

বোয়িংয়ের নতুন ক্রয়াদেশ: বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে আরও ২৫

রিপোর্টার: / ৩ পঠিত
আপডেট: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আকাশপথে যাত্রী পরিবহনের বিশ্বস্ত নাম বোয়িং। যুক্তরাষ্ট্রের এই উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি মূলত যাত্রীবাহী বিমান, কার্গো ও সামরিক প্রযুক্তির জন্য সমাদৃত। দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন এয়ারলাইনের প্রথম পছন্দ বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার কিংবা ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ। বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্ক, ভারত, চীন ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো তাদের এয়ারলাইনের বহর বাড়াতে বোয়িংয়ের ওপরই আস্থা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ৭৩৭, ৭৭৭ ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের মতো বিভিন্ন মডেলের বিমান তৈরি করে, যা বিশ্বের বহু এয়ারলাইনের বহরে রয়েছে। বাংলাদেশের বিমান চলাচলেও দীর্ঘদিন ধরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ব্যবহৃত হচ্ছে। বোয়িংয়ের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো দীর্ঘ দূরত্বে উড়ার সক্ষমতা, জ্বালানি দক্ষতা, বেশি যাত্রী বহনের সুযোগ এবং আধুনিক প্রযুক্তি।

সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িং থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান রয়েছে। চলতি বছর এর আগেও বিমান ১৪টি উড়োজাহাজের জন্য ক্রয়াদেশ দিয়েছিল, যার ফলে এ বছর বিমানের মোট ক্রয়াদেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে। মূলত রুট, যাত্রী ধারণক্ষমতা এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন বিমানগুলো কেনা হচ্ছে।

বোয়িংয়ের ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলটি বেশ আলোচিত, যা ২০১১ সালে প্রথম বাণিজ্যিক সেবায় আসে। উড়োজাহাজটির কাঠামো ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম্পোজিট উপাদানে তৈরি, যা আগের প্রজন্মের বিমানের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি খরচ কমায়। এছাড়া বড় জানালা, উন্নত শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং কেবিন প্রেশার দীর্ঘ যাত্রায় যাত্রীদের আরামদায়ক অভিজ্ঞতা দেয়। অন্যদিকে, ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলগুলো মূলত স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। উন্নত ইঞ্জিন ও বায়ুগতীয় প্রযুক্তির কারণে এই বিমানগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী।

তবে ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলটির একটি বিতর্কিত নিরাপত্তার ইতিহাস রয়েছে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সংঘটিত দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে এই মডেলটির বাণিজ্যিক ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যার ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর বিমানটি পুনরায় সেবায় ফিরে আসে। তবে ৭৩৭ ম্যাক্সের নিরাপত্তার ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বিমানটির চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের তালিকাভুক্ত মূল্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্সের দাম প্রায় ১২১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়াও ৭৮৭-৮ মডেলের দাম প্রায় ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ, ৭৮৭-৯ মডেলের দাম ২৯২ কোটি ৫০ লাখ এবং ৭৮৭-১০ মডেলের দাম প্রায় ৩৩৮ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। অবশ্য চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য সাধারণত চুক্তি, বাণিজ্যিক শর্ত এবং বিশেষ ছাড়ের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। বর্তমানে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বোয়িংয়ের এই নতুন বিমানগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ