• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুর পারমাণবিক জ্বালানি: পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের ব্যাখ্যা মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে হকার-পুলিশ সংঘর্ষ ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম কর্মকর্তার মৃত্যুতে দম্পতি গ্রেপ্তার হুতি মোকাবিলায় সৌদি-আমিরাত সমঝোতার তোড়জোড় সৌদি যুবরাজ ও নেদারল্যান্ডসের রাজার সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৬ লাখ টাকার বিদেশি মদ জব্দ উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ নিয়ে কঠোর প্রধানমন্ত্রী সোনাতলা নদীর বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশের পর মাঠে পল্লী বিদ্যুৎ   ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তির সুযোগ দেখছেন জেডি ভ্যান্স পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ: কেন থামছে না অস্থিরতা

হুতি মোকাবিলায় সৌদি-আমিরাত সমঝোতার তোড়জোড়

রিপোর্টার: / ৫ পঠিত
আপডেট: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের লক্ষ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সমঝোতার প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আবুধাবিতে এক বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেই বৈঠকে নেতানিয়াহু হুতিদের পরাজিত করার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ডনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইয়েমেন ইস্যুতে সাড়া না দেওয়ায় সৌদি আরবের পক্ষে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা বেশ জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মঙ্গলবার রিয়াদে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান উপস্থিত ছিলেন। অতীতে ইয়েমেনে হুতিবিরোধী শক্তিগুলোকে সমর্থন দিয়ে এলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরে। সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বা এসটিসির বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের পরাজিত করলে এই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মূলত দক্ষিণ ইয়েমেনকে পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার এসটিসির প্রচেষ্টা ঠেকাতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল, যার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত কার্যত ইয়েমেন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইরানপন্থী হুতিদের আকস্মিক সাফল্য ইয়েমেনের ভূরাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। হুতি বাহিনী সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে এগিয়ে যায়। এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট তারেক সালেহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের প্রতিরোধ দ্রুত ভেঙে পড়ে। বর্তমানে হুতিরা তাদের দখলে নেওয়া এলাকাগুলো সুসংহত করার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজ দখলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট বা রুসির উপসাগর ও ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ বারা শিবান জানান, হুতিরা তাইজে একের পর এক হামলা চালিয়ে সেখানকার বাহিনীকে ক্লান্ত করার কৌশল নিয়েছে। শিবান সম্প্রতি এক সপ্তাহ তাইজ এলাকায় অবস্থান করেছেন। তার মতে, হুতিদের পিছু হটালেও তারা বারবার নতুন ফ্রন্ট খুলে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ইয়েমেন ছেড়ে আসা আমিরাত যদি ফিরে না আসে এবং এসটিসির সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ অব্যাহত থাকে, তবে হুতিদের ঠেকানো কঠিন হবে। এসটিসির নেতা এইদারুস আল-জুবাইদি সৌদি অভিযানের পর নির্বাসনে রয়েছেন, ফলে রাজনৈতিকভাবে গোষ্ঠীটি অনেকটাই কোণঠাসা।

ইয়েমেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ আল ইয়েমানি জানান, দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সৌদি আরবকে নতুন করে ভাবতে হবে। তার মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জায়ান্ট ব্রিগেডস হুতিদের ঠেকাতে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে পরিচিত ছিল। তাই হুতিদের অগ্রযাত্রা রুখতে হলে দুই দেশের মধ্যকার সমঝোতা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জ্বালানি খাতের মতো বিষয়েও প্রভাব ফেলতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ