• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন

মিরপুরে হকার উচ্ছেদ: সংঘাত নয়

রিপোর্টার: / ১০ পঠিত
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে ১০ নম্বর এলাকার হোপ মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযানে সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অভিযানকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সংবাদ সংগ্রহের সময় গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। একইভাবে পুলিশের সদস্যদের সঙ্গেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, কোনো প্রকার সমন্বয় ছাড়াই এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে, যা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সাথে পরামর্শ করে পদক্ষেপ নিলে বিষয়টি আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। তিনি মনে করেন, সংঘাত এড়িয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও জনগণের চলাচলের পথ নির্বিঘ্ন রাখার মতো একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন। সেইস‌ঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে গে‌লে তাদেরও বাধা দেওয়া হয়। পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি উত্তম ও কার্যকর পথ বের করা সম্ভব ছিল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মাসের পর মাস ধরে একদল অসাধু চক্র হকারদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আর্থিক দায়ভার শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের কাঁধেই চাপে। এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ও অতর্কিত উচ্ছেদ অভিযানের পরিবর্তে টেকসই ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, উচ্ছেদ পরিচালনার আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা উচিত ছিল, যা মানবিক ও বাস্তবসম্মত হওয়ার দাবি রাখে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব আমার ওপরই বর্তায়। ভবিষ্যতে যেকোনো উন্নয়ন বা উচ্ছেদমূলক কর্মকাণ্ডে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, সমস্যা যেখানেই থাকুক, সমাধানের পথও সেখানে বিদ্যমান। তবে সেই সমাধান হতে হবে নিরপেক্ষ, মানবিক এবং কাউকে অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না করে। তিনি এ সময় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে হবে, তবে ফ্যাসিবাদের দোসরদের জন্য এখানে কোনো জায়গা নেই। শফিকুর রহমান লেখেন, এই আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন, যেখানে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। এ ক্ষেত্রে সংঘাতের পরিবর্তে বাস্তবতা উপলব্ধি করে এমন একটি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথও নির্বিঘ্ন ও ব্যবহারোপযোগী থাকে। এ বিষয়ে আমারও দায়িত্ব রয়েছে এবং আমাকে সম্পৃক্ত করা যেত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ