• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পল্টন-প্রেস ক্লাবে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ, রাজধানীতে তীব্র যানজট সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা ও অবকাঠামো নির্মাণের তীব্র নিন্দা বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গাছের চারা রোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আলোচনার আহ্বান ইরানের চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনে বিশ্বশক্তির জোর প্রতিযোগিতা ১৭২ যাত্রীর প্রাণরক্ষা: হাসপাতালে আহত পাইলটকে দেখতে গেলেন ক্রাউন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হাজিপুরে বৈদ্যুতিক চুরি ঘিরে উত্তেজনা, দুইজন আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ কুষ্টিয়ার লালন মাজারে হামলার শিকার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানি ঘিরে আদালতে আইনজীবীদের হাতাহাতি

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনে বিশ্বশক্তির জোর প্রতিযোগিতা

রিপোর্টার: / ৭ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়ে তোলা এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। চাঁদকে কেন্দ্র করে মহাকাশ দখলের এই নতুন প্রতিযোগিতায় পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে পরাশক্তিগুলো। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নিজস্ব পারমাণবিক চুল্লি পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে ‘সেলেনা’ নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি চাঁদে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

চাঁদে সৌরশক্তির ব্যবহার অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ সেখানে টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অন্ধকার থাকে। এই দীর্ঘ রাত ও তীব্র ঠান্ডার সময় ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় উষ্ণতা ধরে রাখতে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘লুনার রিঅ্যাক্টর-১’ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর কার্যকর থাকবে। এর বিপরীতে, চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ‘সেলেনা’ চুল্লিটি টানা ১০ বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে চাঁদে এমন প্রযুক্তির ব্যবহারে বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রকেট উৎক্ষেপণের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া চরম প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির সুরক্ষা নিশ্চিত করাও প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন।

এদিকে পারমাণবিক স্থাপনা ঘিরে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। কিন্তু পরমাণু স্থাপনার নিরাপত্তার অজুহাতে কোনো দেশ যদি চুল্লির আশপাশের এলাকাকে ‘নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে, তবে অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে তা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে, যা মহাকাশেও নতুন বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ