• সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলার ছাড়াল ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি: থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কূটনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করার ওপর জোর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী সৌদি-আমিরাত সম্পর্ক: অভিন্ন স্বার্থে পুরনো দ্বন্দ্ব ভুলে এক কাতারে? ২০২৭ সালে রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা: জামিনে মুক্ত গোলাম মহিউদ্দিন সরকারের সাথে সমঝোতা ব্যর্থ, ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের লংমার্চ

কূটনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করার ওপর জোর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রিপোর্টার: / ৮ পঠিত
আপডেট: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশের কূটনীতিকে আরও অর্থনীতিকেন্দ্রিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত অবস্থান

হুমায়ুন কবির জানান, বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন পরিবর্তন করছে এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমে আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে কেবল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ালেই চলবে না, ভবিষ্যৎ নির্মাণেও ভূমিকা রাখতে হবে। পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও প্রসারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা জরুরি।

বিদেশে মিশনের দায়িত্ব ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

  • বিদেশের মিশনগুলোকে নতুন বাজার খোঁজা, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশি পণ্যের প্রচারে আরও সক্রিয় হতে হবে।
  • বঙ্গোপসাগরকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
  • দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, জ্বালানি ও জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
  • জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য, জ্বালানি, সাইবার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সীমান্তপারের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট ও পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির চারটি মূল স্তম্ভ তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ হবে পথপ্রদর্শক, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন হবে শক্তি, অংশীদারত্ব নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং শান্তিই থাকবে চূড়ান্ত লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, সিজিএস আয়োজিত এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি ও এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, কূটনীতিক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি সোমবার শেষ হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ